<<90000000>> দর্শক
<<240>> উদ্যোক্তা 17টি দেশে
<<4135>> টি কৃষিবাস্তুবিদ্যা ভিডিও
<<105>> ভাষা উপলব্ধ

ধীরে ধীরে টাকা উপার্জন

এগ্রো-ইনপুট ডিলারেরা প্রায়শই যেকোনোভাবেই হোক, শুধু টাকা আয় করার কথা চিন্তা করেন। ভিন্ন ভাষায় এটিকে ‘দ্রুত টাকা উপার্জনের উপায়’ বলা যেতে পারে। তবে, আলোকিত বা শিক্ষিত ডিলারেরা তাদের মুনাফা লাভের পাশাপাশি গ্রাহকদের কল্যাণের কথাও চিন্তা করেন। ফলে তারা গ্রাহকদের বিশ্বাস অর্জন করেন এবং দীর্ঘমেয়াদে ব্যবসা করতে পারেন।   

 

উগান্ডার ফোর্ট পোর্টালে রিচার্ড বুসিঞ্জের একটি ছোট্ট দোকান আছে, যেখানে কৃষি-সরঞ্জাম, বীজ ও অন্যান্য কৃষি-ইনপুট বিক্রি হয়। ২০১৬ সালে রিচার্ড খেয়াল করেন যে, গ্রাহকদের আকৃষ্ট করতে এবং ধরে রাখতে তিনি অ্যাকসেস এগ্রিকালচার প্রশিক্ষণ ভিডিওগুলো (www.accessagriculture.org) ব্যবহার করতে পারেন।

 

রিচার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে কম্পিউটার সায়েন্স ও মনিটরিং অ্যান্ড ইভ্যালুয়েশন (এমঅ্যান্ডই) বিষয়ে অধ্যয়ন করছেন। তাঁর প্রথম চাকরি একটি দাতা সংস্থার অর্থায়ন প্রকল্পে ছিল, সেখানে কাজ করার সময় তিনি উপলব্ধি করেছিলেন যে, কৃষকদের জন্য মানসম্পন্ন ইনপুট খুঁজে পাওয়া কতটা কঠিন ছিল। তাই প্রকল্পটি শেষ হওয়া মাত্রই তিনি তার নিজস্ব ব্যবসা শুরু করেন। তবে, সেখানে কঠোর প্রতিযোগিতা ছিল।

 

রিচার্ড একদিন তার মায়ের কাছে এই কথা বলেন, রিচার্ডের মা বাজরে পণ্য বিক্রি করে তার সন্তানদের লেখাপড়া শিখিয়েছেন। একসময় তিনি এক বাজার থেকে পুরনো কাপড় কিনে অন্য বাজারে বিক্রি করতেন। তাই তিনি পরামর্শ দেন যে, “হয় তোমার পণ্যগুলো তুমি বাজারে কৃষকদের কাছে নিয়ে যাও, নতুবা তাদের তোমার কাছে আসতে দাও।”

 

এরপর থেকে রিচার্ড প্রতিমাসে একবার হাটবারে তার দুইজন সহকারী এবং কিছু পণ্যসামগ্রী ট্যাক্সিতে করে কাছের ছয়টি শহরের একটিতে নিয়ে যান, এভাবে তিনি প্রতি ছয় মাসে প্রতিটি বাজারে যান। উগান্ডার ছোটো শহরগুলোর প্রতিটিতে কালো পলিথিন শিট ও হালকা কাঠ দিয়ে তৈরি কমপক্ষে একটি ভিডিও হল থাকে, যেগুলোকে ‘চিভান্ডা’ বা ‘বিবান্দা’ বলা হয়। গ্রাহকেরা অল্প টাকা খরচ করে একটি বাণিজ্যিক সিনেমা, সাধারণত অ্যাকশন মুভি দেখে। দর্শকেরা সবাই হলে বসার পর ‘চিভান্ডা’র দরজা বন্ধ হয়ে যায়। 

 

তিন ঘণ্টার জন্য ‘চিভান্ডা’ এককভাবে ব্যবহার করতে রিচার্ড এক লাখ উগান্ডান শিলিং (২৬ মার্কিন ডলারের সমান) ব্যয় করেন। প্রথমে তার নিয়োগ করা একজন ব্যক্তি শহরের চারপাশে লাউড স্পিকারে ঘোষণা করেন যে, কোথায় কখন ক্রেতারা বিনামূল্যে ভিডিও দেখতে পাবেন। ঘোষক বলেন: “কৃষক ভাইয়েরা, এই সুযোগ হেলায় হারাবেন না!”  

 

লোকেরা যখন ভিডিও দেখতে ‘চিভান্ডা’য় প্রবেশ করে তখন শুরুতে রিচার্ড আধা ঘণ্টা জনপ্রিয় গান বাজান, যাতে প্রবেশকারীরা বিরক্ত না হয়ে নিজেদের জায়গায় বসে। এরপরে রিচার্ড একটি ভিডিও চালান, যেটি তিনি আগেই অ্যাকসেস এগ্রিকালচার থেকে ডাউনলোড করে একটি ইউএসবি স্টিকে (পেন ড্রাইভ-জাতীয়) সংরক্ষণ করেছিলেন। তিনি শুধু মেমোরি স্টিকটি ‘চিভান্ডা’র মুভি প্লেয়ার বা ল্যাপটপে সংযুক্ত করেন।

 

প্রথম ভিডিওটি প্রদর্শনের পর দ্বিতীয়টি চালানোর আগে রিচার্ড দর্শকের কাছ থেকে প্রশ্ন আহ্বান করেন এবং একই প্রক্রিয়ায় তৃতীয় ভিডিওটিও দেখান। প্রতিটি ভিডিও মাত্র ১৫ মিনিট স্থায়ী হয়, কিন্তু প্রশ্নোত্তর পর্ব ও গান বাজানো-সহ পুরো তিন ঘণ্টা ধরেই ‘চিভান্ডা’ ব্যবহার করেন তিনি।

 

রিচার্ড বিনামূল্যে ভিডিও দেখান, তাই ‘চিভান্ডা’র দরজা সারাক্ষণই খোলা থাকে এবং কৃষকেরা ক্রমাগত আসা যাওয়া করতে থাকে। ‘চিভান্ডা’র দরজার ঠিক বাইরে রিচার্ডের একটি স্টল থাকে, যেখানে তার সহকারীরা পণ্যসামগ্রী বিক্রি করে, যে পণ্যগুলোর মধ্যে কিছু পণ্য কৃষকেরা ভিডিওতে দেখেছেন, যেমন পিআইসিএস ব্যাগ (মটরশুঁটি বা অন্য কোনো শস্যে পোকামাকড় আক্রমণ করতে পারবে না, প্লাস্টিকের তৈরি এমন সংরক্ষণ ব্যাগ। কখনো কখনো রিচার্ড কীভাবে পেঁয়াজ উৎপাদন করতে হয় তা দেখান, যা তার পেঁয়াজের বীজ বিক্রিতে সাহায্য করে।

 

রিচার্ডের একজন সহকর্মী (পশুচিকিৎসক) কাছাকাছি একটি স্ট্যান্ড স্থাপন করেন এবং সেখানে পশুস্বাস্থ্যপণ্য (অ্যানিমেল হেল্থ প্রডাক্ট) বিক্রি করেন; সহযোগী দুটি ব্যবসা একই জায়গায় হওয়ায় বেশি গ্রাহককে আকৃষ্ট করা সহজ হয়। 

 

রিচার্ড কৃষিবিদ নন। তবে, তিনি প্রচুর পড়েন এবং ইন্টারনেটে তথ্য খোঁজেন, যাতে তিনি ভিডিও শো চলাকালীন কৃষকদের জিজ্ঞাসার জবাব দিতে পারেন। যখন তিনি কোনো প্রশ্নের উত্তর দিতে পারেন না, তখন তিনি বলেন, “আমার জানা নেই। তবে, আমি খুঁজে বের করে পরে আপনাদের বলবো।”

 

মাঠের প্রশ্নগুলো, যেগুলোতে কৃষকদের আগ্রহ আছে, সেগুলো রিচার্ডকে নতুন নতুন বিষয় সম্পর্কে জানতে ধারণা দেয়। তারপর তিনি প্রতি শনিবার সকালে স্থানীয় লুটোরো ভাষায় রেডিও-র একটি টকশোতে এই বিষয়গুলো সম্বন্ধে আলোচনা করেন। কখনো কখনো কৃষকেরা, যারা বাজারে ভিডিওগুলো দেখেছেন, তারা রিচার্ডের ফোর্ট পোর্টালে অবস্থিত দোকানে (কিওম্বিয়া এগ্রো এন্টারপ্রাইজ) আসেন এবং কোনো একটি সুনির্দিষ্ট ভিডিও পুনরায় দেখতে চান। তারা হয়ত বলেন, “আমাকে পেঁয়াজের একটি ভিডিও দেখাও।” রিচার্ড অথবা তার একজন সহকারী খুশিমনে ভিডিও চালান।   

 

রিচার্ড বলেন, “ভিডিওগুলো আমার দোকানে আরও গ্রাহক আনতে সহযোগিতা করেছে। আমরা যেগুলো বিক্রি করছি, সেগুলোর ব্যাপারে তারা বেশি আস্থাশীল, কেননা আমাদের কাছে ভিডিও আছে। ভিডিও থাকার কারণে গ্রহকেরা জানেন যে, অন্য ডিলারের চেয়ে আমার কাছে বেশি তথ্য আছে। তাই তারা আরও জানতে আসে।”

 

ধীরে ধীরে একজন গ্রাহক তৈরি করা, ধারণা শেয়ার করা এবং বিশ্বাস অর্জন করা, টাকা উপার্জনের দ্রুততম উপায় নাও হতে পারে। তবে, আলোকিত ব্যক্তিরা নিজেদের স্বার্থেই এমন ব্যবসা প্রতিষ্ঠা করতে পারেন যার মাধ্যমে জনগোষ্ঠীর সেবা করা যায় এবং যার আয় দিয়ে একটি পরিবার চলতে পারে। কখনো কখনো কৃষক-শিখন ভিডিও থেকেও সাহায্য পাওয়া যায়। 

 

সংরক্ষণ ব্যাগ বিষয়ে অ্যাকসেস এগ্রিকালচারের ভিডিওসমূহ

ভুট্টা শস্যের ভালো সংরক্ষণ

একটি গুদামে ভুট্টা সংরক্ষণ ও ব্যবস্থাপনা

 

পেঁয়াজ বিষয়ে অ্যাকসেস এগ্রিকালচারের ভিডিওসমূহ

পেঁয়াজ 

 

© Copyright Agro-Insight

আপনি কিভাবে সাহায্য করতে পারেন.. আপনার উদার সাহায্য আমাদের ক্ষুদ্র কৃষকদের কৃষি পরামর্শের জন্য তাদের ভাষায় আরও ভালভাবে পৌঁছাতে সক্ষম করবে।.

Latest News

অ্যাকসেস এগ্রিকালচার-এর নতুন ওয়েবসাইটে স্বাগত

কৃষিবিদ্যা এবং জৈবচাষাবাদের ওপর কৃষক প্রশিক্ষণ ভিডিওর বিশ্বের বৃহত্তম বহুভাষিক লাইবেরি অন্বেষণ করুন ব্রাসেলস, বেলজিয়াম — অ্যাকসেস এগ্রিকালচার তাদের

মিশরে অগ্রগামী কাজের জন্য অ্যাকসেস এগ্রিকালচার প্রশংসিত

সিজিআইআর, একটি বৈশ্বিক কৃষি-গবেষণা নেটওয়ার্ক, এর নির্বাহী ব্যবস্থাপনা পরিচালক ডক্টর ইসমাহানে ইলাউফি মিশরের প্রত্যন্ত গ্রামীণ অঞ্চলে নারী ও তরুণ শ্রেণিসহ কৃষকদের কাছে পৌঁছানোর জন্য অ্যাকসেস এগ্রিকালচারের ভূয়সী প্রশংসা করেন।

লাইট ক্যামেরা অ্যাকশন ফিলিপাইনে অ্যাকসেস এগ্রিকালচার-শৈলীর ভিডিও নির্মাণ প্রশিক্ষণ

সম্প্রতি ফিলিপাইনের চারটি উন্নয়ন সংস্থার বারো জন অংশগ্রহণকারী দুই সপ্তাহের একটি ভিডিও নির্মাণ প্রশিক্ষণ কোর্সে অংশ নেন। প্রশিক্ষণে উচ্চমানের কৃষক-থেকে-কৃষক প্রশিক্ষণ ভিডিও নির্মাণের অত্যাবশ্যক দক্ষতাগুলো শেখানো হয়, যে-ভিডিওগুলো নির্মাণে গুণমান, বিষয়বস্তু এবং অ্যাকসেস এগ্রিকালচারের কঠোর মান মেনে চলতে হয়।

সাউথ আফ্রিকার তরুণ উদ্যোক্তারা স্মার্ট প্রযুক্তি বিষয়ে হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ নিয়েছেন

সাউথ আফ্রিকার লিম্পোপো এবং ইস্টার্ন কেপ থেকে ইয়াং এন্টারপ্রেনর চ্যালেঞ্জ ফান্ড জয়ী চার জন গ্রামীণ তরুণ উদ্যোক্তাÑ তাদের মধ্যে দুই জন দুটি ইআরএ দল থেকে এবং দুই জন এককভাবে তিন দিনের একটি প্রশিক্ষণ কর্মশালায় অংশগ্রহণ করেন। ৩ থেকে ৫ অক্টোবর ২০২৩ তিনদিনব্যাপী ডিজিটাল সরঞ্জাম এবং টেকনোলজি বিষয়ে এই প্রশিক্ষণ কর্মশালাটি অনুষ্ঠিত হয় সাউথ আফ্রিকার পোলোকোয়ানে-তে।

সাম্প্রতিক ভিডিও

আমাদের স্পনসরদের ধন্যবাদ