আমাদের যুব উদ্যোক্তারা

গ্রামীণ জনগোষ্ঠীতে তরুণসমাজের কাছে কৃষিকে আরো আকর্ষণীয় করে তুলতে এবং আরো বেশিসংখ্যক নারীর কাছে পৌঁছে দিতে যারা কৃষি-ভিডিওসমূহ প্রচারের সাথে যুক্ত একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠা করতে চায়, যা কৃষক ও গ্রামীণ ব্যবসাকে সাহায্য করবে, এমন তরুণ গতিশীল লোকেদের সহায়তা করার জন্য ‘তরুণ উদ্যেক্তা চ্যালেঞ্জ ফান্ড’ গঠিত হয়েছে। চ্যালেঞ্জ ফান্ড বিজয়ীরা যে সৌর-চালিত স্মার্ট প্রজেক্টর পেয়েছে তার ভেতরে স্থানীয় ভাষায় অ্যাকসেস এগ্রিকালচার ভিডিওসমূহ রয়েছে, তারা যে গ্রামীণ এলাকায় সেবা প্রদান করে এর সাহায্যে তারা সেখানে প্রভাব ফেলতে পারে। এখানে, আমাদের চ্যালেঞ্জ ফান্ড বিজয়ীদের সাথে সাক্ষাৎ করুন- রুরাল অ্যাকসেস-এর জন্য তারা সত্যিকারের উদ্যোক্তা...

আইভরি কোস্ট

কোনান এন’গুয়েসান রিচমন্ড
২০১৭ সালে যখন তিনি একটি সভায় অংশগ্রহণ করেছিলেন তখন থেকেই তাঁর উদ্যোক্তা বিষয়ে আগ্রহ জাগে, যদিও তখন তিনি শিক্ষার্থী ছিলেন। তাঁর সহযোগীদের সাথে কাজ করার সময় তিনি সহ-প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে ‘ফ্যাং দল’ শুরু করেন, যেটি কৃষি প্রকল্পগুলোর নকশা তৈরি এবং বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে একটি বিশেষজ্ঞ সংস্থা বা দল। তিনি একজন শিক্ষার্থী উদ্যোক্তা হয়ে ওঠেন এবং আইএনপি-এইচবি (ইন্সটিটিউট ন্যাশনাল পলিটেকনিক ফেলিক্স হাউফুয়েট বোইনি ডি ইয়ামোসৌক্রো) নামক উদ্যোক্তা ক্লাবে যোগদান করেন এবং ২০১৮ সাল থেকে তিনি সেখানে কমিউনিটি ব্যবস্থাপক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। কৃষি এঞ্জিনিয়ারিংয়ে ডিপ্লোমা অর্জনের পর তিনি সোসাইটি আফ্রিকান ডি প্লানটেশন ডি’হ্যাভস (এসএপিএইচ) সংস্থায় যোগদান করেন। বর্তমানে তিনি সেখানে পাইথোপ্যাথোলজিস্ট হিসেবে কাজ করছেন। এর পাশপাশি নিজ কমিউনিটিকে সহযোগিতা করার জন্য উদ্যোক্তা প্রকল্পগুলোও চালিয়ে যাচ্ছেন।

উগান্ডা

অ্যাড্রিকো নেগ্রো সাইমন
নিজেদের কৃষি খামার থাকায় সাইমন পরিবারের কাছ থেকেই কৃষিকাজে এবং কৃষি-প্রশিক্ষণে দক্ষ হয়ে বেড়ে ওঠার সুযোগ পেয়েছেন। পরিবার থেকেই তাঁর কৃষির প্রতি ভালোবাসা জন্মে ও বিকাশ লাভ করে। পরে তিনি উগান্ডার র্মাটিয়ার বিশ^বিদ্যালয় থেকে কৃষি-বিষয়ে ¯œাতক ডিগ্রি লাভ করেন। কৃষি এবং জীবিকার ক্ষেত্রে তাঁর অনেক বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে। ওয়ার্ল্ড ভিশন উগান্ডার সাথে পরিবেশ নিয়ে কাজ করার তাঁর রয়েছে দারুণ অভিজ্ঞতা। তিনি এখন উগান্ডার ‘ওয়েস্ট নীল’ অঞ্চলে শরণার্থী-বস্তিতে ও গ্রামীণ কৃষক এবং দক্ষিণ সুদান ও কঙ্গো থেকে আসা শরণার্থীদের জন্য কৃষি-প্রশিক্ষণ ভিডিও প্রদর্শনীর সাথে সক্রিয়ভাবে যুক্ত। প্রশিক্ষণটি বেশিরভাগ শাকসবজি, ক্ষেতের ফসল এবং পরিবেশ সুরক্ষার জন্য পরিচালিত। অংশগ্রহণকারীরা সত্যি সত্যিই নতুন প্রযুক্তি গ্রহণ করছে এবং তাদের বাড়ির বাগানে এবং ফসলের ক্ষেতে প্রয়োগ করছে।
মার্থা কিউকুহায়ার
একজন স্ব-প্রণোদিত খামার-ব্যবস্থাপক। তিনি উগান্ডার লুয়েরো জেলায় অবস্থিত কিনানো নামের জৈবখামারে ব্যবস্থাপক হিসেবে কাজ করেন। কোভিড-১৯-পরবর্তী প্রভাবগুলো প্রশমিত করার পদক্ষেপ হিসেবে তাঁর দল খামারে উৎপাদিত শাকসবজিগুলো ‘অর্গানো বাস্কেট’ নামের একটি অনলাইন দোকানের মাধ্যমে বিক্রি করে। মার্থা মেকেরেরে বিশ^বিদ্যালয় থেকে কৃষি-বিষয়ে বিএসসি [সম্মান] ডিগ্রি অর্জন করেন। ২০১৮ সালে তিনি পূর্ব-উগান্ডার ‘গো অর্গানিক’ নামের একটি সংস্থা দ্বারা পরিচালিত ইন্টারন্যাশনাল ট্রেনিং কোর্স অন অর্গানিক এগ্রিকালচার (আইটিসিওএ)-এ অংশগ্রহণ করেন। উগান্ডার কৃষি-ব্যবসা ও পরামর্শদাতা প্রতিষ্ঠান ‘ফারমার ইনভেস্টমেন্ট অপরচিউনিস্ট অ্যান্ড মার্কেট’ (এফআইওএম)-এর তিনি একজন কৃষিবিদ ও অংশীদার। উগান্ডার এফআইওএম পরিচালিত ইয়ুথ এগ্রি-ইনভেস্টমেন্ট ক্লাব (ওয়াইএআইসি)-এরও তিনি একজন ফোকাল পয়েন্ট। ওয়াইএআইসি-এর লক্ষ্য হলো, পরিবেশ রক্ষা করার জন্য যুবসমাজকে লাভজনক কৃষি-ব্যবসায়ে উৎসাহিত ও সহযোগিতা করা। ইয়াং এন্টারপ্রেনার চ্যালেঞ্জ ফান্ড প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হওয়ার আগে থেকেই মার্থা অ্যাকসেস এগ্রিকালচার ভিডিওগুলো ব্যবহার করে আসছিলেন। কীভাবে ভার্মিকম্পোস্ট তৈরি করা যায়, খামার-কর্মীদের তা শেখানোর জন্য তিনি অ্যাকসেস এগ্রিকালচার ভিডিওগুলো ব্যবহার করছেন। মার্থা জৈব-কৃষিকাজ ও টেকসই উন্নয়নে প্রাণান্ত। মার্থা’র পরিকল্পনা হলো, আশেপাশের জনগোষ্ঠীর কৃষকদের প্রশিক্ষণের জন্য স্মার্ট প্রজেক্টর ব্যবহার করা। যেমন, কাম্পালায় জৈবিকভাবে শাকসবজি উৎপাদনের জন্য কৃষকদের প্রয়োজনীয় চাহিদা মেটাতে পারে কিনানো জৈবখামার।
রেবেকা আকুলু
রেবেকা আকুলু উত্তর-উগান্ডার আদুকু-তে অবস্থিত উগান্ডার কলেজ অব কমার্স থেকে বিজনেস স্টাডিজ-এ ডিপ্লোমা অর্জন করেন, তাঁর প্রধান বিষয় ছিল হিসাব বিজ্ঞান। তিনি আদ্যাকা রুরাল ইয়ুথ ডেভেলপমেন্ট ইনেশিয়েটিভ (এআরওয়াইডিআই) পরিচালিত লিরার আর্যাদি মৌমাছি খামারের সহ-পরিচালক। এআরওয়াইডিআই মূলত মৌমাছি সংরক্ষণের আধুনিক কৌশল, মৌমাছি চাষ ও মধুর ব্যবসায়ের জন্য মূল্য সংযোজন বিষয়ে দুই হাজারেরও বেশি কৃষককে প্রশিক্ষণ দিয়েছে। দলটি গ্রামীণ কৃষকদের ফসলের উৎপাদন এবং গবাদিপশু লালনপালনে পরিবেশবান্ধব অনুশীলনগুলো প্রয়োগ করে যাতে মৌমাছির ইকোসিস্টেম বজায়ে থাকে। রেবেকা কিশোরী বয়সে গর্ভধারণের শিকার হয়েছিলেন ফলে তাঁর লেখাপড়ায় ছেদ পড়ে। তবে, প্রাতিষ্ঠানিক লেখাপড়া শেষ করার জন্য তিনি পরে কলেজে ভর্তি হন। তিনি নেটওয়ার্ক ফর উইমেন অ্যাকশন নামে একটি প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন। প্রতিষ্ঠানটি গর্ভধারণের দরুন স্কুল থেকে ঝরে পড়া কিশোরীদের কাগজের ঠোঙা তৈরি করা, ঝুড়ি বানানো এবং স্থানীয় উপকরণ ব্যবহার করে মৌচাক বানানোর কাজে কারিগরি দক্ষতা অর্জনে প্রশিক্ষণ দিয়ে থাকে। রেবেকা সামাজিক কৃষিব্যবসা এবং সামাজিক উদ্যোগ ও অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নের মাধ্যমে তাঁর জনগোষ্ঠীর গ্রামীণ ক্ষুদ্রকৃষকদের জীবিকার পরবর্তনে ও রূপান্তরে প্রাণান্ত। তাঁর পরিকল্পনা হলো, সৌরশক্তি চালিত স্মার্ট প্রজেক্টর ব্যবহার করে ভিডিও প্রদর্শন ও প্রশিক্ষণ প্রদান করে অন্যান্য তরুণীদের অর্থ উপার্জনের পাশাপাশি কৃষিকাজে আগ্রহী করে তোলা।
টেডি নবোয়্যার [দলনেতা]
টেডি নবোয়্যার একজন তরুণ মা, নেতা, কৃষক ও উদ্যোক্তা। তিনি বুলেমেজি সিনিয়র মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে উগান্ডা সার্টিফিকেট এডুকেশন (ইউ.সি.ই)-সহ সাধারণ শিক্ষা শেষ করেন। দুর্ভাগ্যবশত, কলেজে ভর্তি হওয়ার পূর্বেই তিনি গর্ভবতী হয়ে পড়েন এবং স্কুল ছাড়তে বাধ্য হন। তবুও, টেডি তাঁর স্বপ্নগুলো শেষ করে দেননি। একজন একক অভিভাবক হিসেবে তিনি মোবাইলে খুচরা টাকা ভরার একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠা করেন এবং রোজগার করার জন্য ভুট্টা ও কলার চাষ করেন। টেডি বর্তমানে জিরোবো কালাগালা (জাইকা) ইয়ুথ মাল্টিপারপাস কো-অপারেটিভ সোসাইটি লিমিটেড-এর ভাইস চেয়ারপারসন। এই পদ তাঁকে নিজের মত প্রকাশ করার এবং তাঁর পেশার নারী ও পুরুষের সাথে সুযোগগুলো ও প্লাটফর্মগুলো শেয়ার করার জন্য প্রস্তুত করেছে। তিনি এই সমবায়ের চেয়ারপারসন হতে চান এবং একজন রাজনৈতিক নেতা হিসেবে তাঁর জেলার নারী কাউন্সিলর হতে চান। টেডি তাঁর দলের নারীদের পরামর্শ দেন যে, তাঁরা যেন কৃষিক্ষেত্রের সকল ভ্যালু চেইনে সক্রিয়ভাবে অংশ নেয় এবং সবসময় তাঁদের মনে করিয়ে দেন যে, স্কুলে পড়াকালীন তাঁরা যেন ‘খারাপ ছেলেদের’ পাল্লায় না পড়ে এবং নিজেদের পড়াশোনায় মনোযোগী হয়। টেডির পরিকল্পনা হলো, স্মার্ট প্রজেক্টর ব্যবহার করে তাঁর সমবায় সমিতিতে সেইসব কৃষকদের সংখ্যা বাড়ানো, যারা প্রচলিত পদ্ধতি ছেড়ে জৈবচাষে অভ্যস্ত হবে।
আবদুল্লাহ সিরাজী [টেডির দলের সদস্য]
আবদুল্লাহ সিরাজীর মেট্রোপলিটন ম্যানেজমেন্ট ইন্সটিটিউট থেকে সাংবাদিকতা ও মিডিয়া স্টাডিজের একটি সনদ রয়েছে। বর্তমানে তিনি মেট্রোপলিটন ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটিতে সোশ্যাল ওয়ার্ক অ্যান্ড সোশ্যাল অ্যাডমিনিস্ট্রেনে ডিপ্লোমা করছেন। সহ-প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে আব্দুল্লাহ সিতুকা ইয়ুথ ডেভেলপমেন্ট নামে একটি জনগোষ্ঠীভিত্তিক সংস্থা [সিবিও] প্রতিষ্ঠা করেন। এই প্রতিষ্ঠানের লক্ষ্য হলো ব্যক্তির ক্ষমতায়ন এবং সামর্থ বৃদ্ধি ও মনোভাব বদলানোর মাধ্যমে জনগোষ্ঠ-তে পরিবর্তন আনা। যুবকদের মাঝে ভালো মোবিলাইজেশনের কারণে সিতুকা যুবকদের কৃষক দলে যুক্ত হতে অন্যন্য উন্নয়ন অংশীদারদের আকৃষ্ট করতে সক্ষম হয়েছে। এর ফলে জিরোবো কালাগালা ইয়ুথ মাল্টিপারপাস কো-অপারেটিভ সোসাইটি লিমিটেড-এর জন্ম হয়, বর্তমানে যেখানে আব্দুল্লাহ সচিব হিসেবে কাজ করছেন। এছাড়াও তিনি একজন টমেটো ও কলা-চাষি, ব্যবসায়ী, স্বেচ্ছাসেবক এবং সকি উগান্ডা ও লুয়েরোর পলিসি ইয়ুথ অ্যাডভোকেসি চ্যাম্পিয়ন। তাঁর সমবায়ের লক্ষ্য হলো, লুয়েরো জেলার কৃষকদের জন্য একটি ওয়ান স্টপ সেন্টার প্রতিষ্ঠা এবং কৃষির মূল্য সংযোজনে শীর্ষস্থানীয় যুব-নেতৃত্বাধীন সমবায় হয়ে ওঠা। তাঁর পরিকল্পনা হলো, কম টাকা খরচ করে কৃষি-রাসায়নিক কেনা এবং জৈবিকভাবে ফসলের উৎপাদন বাড়ানোর জন্য কৃষকদের প্রশিক্ষিত করার কাজে স্মার্ট প্রজেক্টর ব্যবহার করা।
মুসা বিরুঙ্গি (টেডির দলের সদস্য)
মুসা বিরুঙ্গি নাসামিজি ট্রেনিং ইন্সটিটিউট অব সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট থেকে ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ বিষয়ে ডিপ্লোমা অর্জন করেন, তাঁর প্রধান বিষয় হলো কমিউনিটি ডেভেলপমেন্ট। বর্তমানে তিনি জিরোবো কালাগালা ইয়ুথ মাল্টিপারপাস কো-অপারেটিভ সোসাইটি লিমিটেড-এর ব্যবস্থাপক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন এবং এর পাশাপাশি আমাহোরো কমিউনিটি ডেভেলপমেন্টে ইনেশিয়েটিভ নামের একটি প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রমও পরিচালনা করছেন। মুসা ও তাঁর বন্ধু আব্দুল্লাহ সিরাজী কালাগালার একটি গ্রামে গিয়ে যুবকদের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করেন এবং তাদের উন্নয়নের লক্ষ্যে সিতুকা ইয়ুথ ডেভেলপমেন্ট প্রকল্প তৈরির কথা চিন্তা করেন। মুসা তাঁর চাকরিতে ইস্তফা দেন এবং তাঁর বন্ধুর সাথে যোগ দিয়ে জনগোষ্ঠীভিত্তিক সংস্থা [সিবিও] প্রতিষ্ঠা করেন। জনগোষ্ঠীর অন্যান্য স্টেকহোল্ডারগণও জিরোবো কালাগালা ইয়ুথ মাল্টিপারপাস কো-অপারেটিভ সোসাইটি লিমিটেড-এ যোগদান করেন। মুসা বিভিন্ন সংস্থা আয়োজিত উদ্যোক্তা প্রশিক্ষণে অংশ নেন। এগুলো তাঁকে সীমিত সম্পদ ব্যবহার করে সমবায় চালাতে এবং তাঁর পোলেট্রি খামার পরিচালনা করতে সহায়তা করেছে। তাঁর পরকল্পনা হলো, টেকসই কৃষির লক্ষ্যে যুবকদের জ্ঞানসহ অন্যান্য ক্ষমতা বাড়ানোর জন্য স্মার্ট প্রজেক্টর ব্যবহার করা।
ক্যানরি আহাবওয়ে (অ্যাগ্রোমুশ’-এর দলনেতা)
কলেজে পড়াকালীন একটি পারিবারিক প্রকল্পে রেকর্ড ব্যবস্থাপক হিসেবে কাজ শুরু করেন। এই প্রকল্পে কাজ করতে গিয়েই তিনি কৃষি-বিষয়ে পড়ালেখা করতে আগ্রহী হন। স্কুল ছুটির দিনগুলোতে কাজ করে তিনি পর্যাপ্ত অর্থ সঞ্চয় করেন। সেই অর্থ খরচ করে তিনি উগান্ডার ‘রুয়েনটাঙ্গা এগ্রিকালচারাল ইন্সটিটিউট’ থেকে কৃষি-বিষয়ক একটি কোর্স সম্পন্ন করে একটি জাতীয় সনদ অর্জন করেন। তাঁর এই কোর্সটি যখন সমাপ্তির পথে তখন হাবওয়ে ইজ্রায়েলে এগ্রোস্টাডিজ-এ ব্যবহারিক কৃষি বিষয়ে একটি ডিপ্লোমা এবং সেচ-বিষয়ে একটি সার্টিফিকেট কোর্স করার জন্য নির্বাচিত হন। ইজ্রায়েলে থাকাকালীন তিনি ‘মেরিনা তেবাপোস্ট’ নামের একটি প্রতিষ্ঠানে হাতে-কলমে মাশরুম উৎপাদন ও প্যাকেজিং শেখেন। উগান্ডায় ফিরে এসে তিনি ইজ্রায়েলে অর্জিত জ্ঞান ও শিক্ষা-কে উগান্ডার প্ররিপ্রেক্ষিতে কাজে লাগিয়ে ‘অ্যাগ্রোমুশ’ নামে একটি প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন, যেখানে তিনি ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এই প্রতিষ্ঠানকে কাজে লাগিয়ে তিনি পশ্চিম ও মধ্য উগান্ডার সুপার মার্কেটগুলোর মাধ্যম্যে নিজের উৎপাদিত মাশরুম ও প্যাকেটজাত পণ্য বিক্রি করে একটি অবস্থান তৈরি করেন। নিজেদের কৃষি-ব্যবসায়ে নতুন পথ তৈরি করার জন্য তিনি তরুণ কৃষকদের মাশরুম চাষের প্রশিক্ষণ দেন। ক্যানরি হাবওয়ে একটি স্মার্ট প্রজেক্টর পাওয়ার অপেক্ষায় রয়েছেন যা তার দলের সদস্যদের জন্য প্রশিক্ষণ কার্যক্রম-কে সহজ করবে এবং স্থানীয় আরও তরুণদের কাছে পৌঁছাতে তাদের সহায়তা করবে। এতে মাশরুম উৎপাদনকারী কৃষকেরাও অন্যান্য ফসল চাষের ভিডিওগুলোও দেখতে পারবেন এবং সীমিত জায়গায় চাষ করা যায় এমন অন্যান্য ফসল উৎপাদন করে আয়ের পথ বাড়াতে পারবেন।
আজারিয়া কামুসিমে (‘অ্যাগ্রোমুশ’-এর সদস্য)
বর্তমানে আলজেরিয়ার সেন্টার ইউনিভার্সিটিয়ার ডি’অ্যাইন টেমুচেন্ট-এর তৃতীয় বর্ষের ছাত্র। তিনি রসায়ন বিষয়ে বিএসসি ডিগ্রি অর্জনের চেষ্টায় রত। তিনি একজন স্ব-প্রণোদিত সামাজিক উদ্যোক্তা। তিনি অরান স্কুল অব ল্যাঙ্গুয়েজ থেকে ফ্রেঞ্চ ভাষায় সার্টিফিকেট কোর্স সম্পন্ন করেন। তিনি পশ্চিম উগান্ডার এমবারার জেলার গ্রামাঞ্চলে সুবিধাবঞ্চিত জনগণের একটি জনগোষ্ঠীভিত্তিক সংস্থা ‘কেয়ার প্রমোশন অ্যান্ড পোভাটি অ্যালিভিয়েশন ইনেশিয়েটিভ’ (সিপিএআই)-এর সহ-প্রতিষ্ঠাতা। আজারিয়া বর্তমানে ‘ইন্সপায়ার’ (অনুপ্রেরণা) প্রকল্পে একজন বিশেষজ্ঞ হিসেবে কাজ করছেন। তাদের লক্ষ্য হলো বাল্যবিবাহ, কিশোরী-গর্ভধারণ এবং জেন্ডারভিত্তিক সহিংসতার ঝুঁকিতে থাকা মেয়েদের সক্ষম করে তোলা। তিনি উগান্ডার ‘অ্যাগ্রোমুশ’-এর যোগাযোগ, বিক্রয় ও বিপণন সমন্বয়ক। ‘অ্যাগ্রোমুশ’ হলো মাশরুম উৎপাদন এবং মূল্য সংযোজন-এর যুবনেতৃত্বাধীন একটি উদ্যোগ। আজারিয়া ভেনচার ক্যাপিটাল আফ্রিকার একজন প্রাক্তন ছাত্র। তিনি জেন্ডারভিত্তিক সহিংসতা-বিরোধী আন্তর্জাতিক অ্যাম্বাসেডর ‘ইয়াং আফ্রিকান লিডারস ইনিশিয়েটিভ’ (ইয়াল)-এর সদস্য। সিটিজন’স ইন্টারন্যাশনাল ইয়ুথ সামিট-এ উদ্ভাবকের পুরস্কার বিজয়ী এবং টেকসই উন্নয়নের উচ্চপর্যায়ের একটি সম্মেলনের স্বেচ্ছাসেবক। এছাড়াও তিনি ফিলাথ্রোপি বিশ^বিদ্যালয় থেকে পর্যবেক্ষণ ও মূল্যায়ন বিষয়ে সনদ অর্জন করেন। তিনি ফেডারেশন অব ইন্টারন্যশনাল জেন্ডার অ্যান্ড হিউম্যান রাইটস-এর জেন্ডারবেইজড ভায়োলেন্স (জিবিভি) বা জেন্ডারভিত্তিক সহিংসতা বিষয়ের সনদপ্রাপ্ত প্রশিক্ষক। আজিরা যখন আলজেরিয়ায় অবস্থান করেন তখন তিনি উগান্ডার অ্যাগ্রোমুশ সদস্যদের সাথে ভারচুয়ালি মিলিত হন। কৃষি-বিষয়ে আরও জানার জন্য তিনি স্মার্ট প্রজেক্টর ব্যবহার করতে চান, যাতে তার দলের সদস্যরা স্থানীয় তরুণ কৃষকদের আরও বেশি অর্থ উপার্জনের প্রশিক্ষণ দিতে পারে।

কেনিয়া

এলফাস এলকানাহ মাসাঙ্গা
এলফাস বুকুরা কৃষি কলেজ থেকে কৃষি ও বায়োটেকনোলজি-তে ডিপ্লোমা করেন এবং তাঁর পারমাকালচার, জৈবসার ও জৈব-গতিশীল কৃষি বিষয়ের কোর্সে অংশগ্রহণ করার প্রশংসাপত্র রয়েছে। তিনি সিড সেভার’স [বীজ সংরক্ষণকারী] নেটওয়ার্কের সাথে কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা হিসেবে কাজ করেছেন। বর্তমানে তিনি ‘স্লো ফুড’ কেনিয়ায় জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ বিষয়ে কৃষক প্রশিক্ষক হিসেবে কাজ করছেন, একইসাথে তিনি কেনিয়ায় ‘স্লো ফুড ইয়ুথ’ নেটওয়ার্কের সমন্বয়কারী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এর পাশাপাশি তিনি এই একই নেটওয়ার্কের আফ্রিকা অঞ্চলের যোগাযোগ ব্যক্তি। এলফাস একটি দেশের অ্যাসোসিয়েশন অব সোস্যাল মিডিয়া প্রোফেশনাল (এএসএমপি)-এর দায়িত্ব পালন করার পাশাপশি ক্লাইমেট চেঞ্জ আফ্রিকা অফরচ্যুনিটি (সিসিএও)-এর ক্লাইমেট ইন আফ্রিকা প্রোগ্রামের গ্রিন অ্যাম্বাসেডর হিসেবেও নিয়োজিত। এলফাস সত্যিকারের একজন পরিবেশকর্মী এবং তিনি কেনিয়ার বিভিন্ন জনগোষ্ঠীতে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও বৃক্ষ রোপণ কার্যক্রমের সমন্বয় করে থাকেন। রাস্তায় আবর্জনা ফেলে রাস্তা নোংরা করবে না এই সচেতনতা তৈরি করতে অতিসম্প্রতি তিনি নাকুরু থেকে নাইরোবি পর্যন্ত ৭০ কিলোমিটার পথ পায়ে হেঁটে প্রচারণা চালিয়েছেন। গ্রামীণ এলাকায় যেখানে বিদ্যুৎ ও ইন্টারনেট সুবিধা নেই, সেখানে মাঠপর্যায়ের প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনার জন্য বিশেষত ‘স্লো ফুড’ বিষয়ক প্রশিক্ষণে তিনি স্মার্ট প্রজেক্টর ব্যবহারের পরিকল্পনা করছেন।
ফেস্টাস কমু (দল নেতা)
ফেস্টাস কমু-এর ট্যুরিজম ব্যবস্থাপনায় একটি ডিপ্লোমা রয়েছে। ফেস্টাস কিম্বু কাউন্টিতে এফএও তরুণ দলের অধীনে প্রশিক্ষণ নেওয়া তরুণদের একজন, যারা উদ্যোক্তা, উন্নত কৃষিকাজ, আর্থিক সংস্থান, বিপণন এবং কৃষক জনগোষ্ঠীর সংগঠন বিষয়ে তাদের জনগোষ্ঠীর সহকারী ও নারীদের সংগঠিত করে ও প্রশিক্ষণ দিয়ে থাকে। তিনি ‘স্মার্ট বিদি’ উদ্যোগের প্রতিষ্ঠাতা। এই প্রতিষ্ঠানটি কৃষকদের সাথে চুুক্তি করে এবং তাদের কাছ থেকে পণ্য কেনে। ক্রয় করা পণ্যগুলো পরে তারা স্থানীয় বাজার, বড়ো হোটেল এবং মুদি দোকানে বিক্রি করে। ফেস্টাস স্মার্ট প্রজেক্টর ব্যবহার করে স্থানীয় কৃষকদের ভালো অনুশীলনের ভিডিওগুলো দেখাবেন বলে পরিকল্পনা করেছেন, যাতে কৃষকেরা তাদের ফসলের গুণমান ও পরিমাণ বাড়াতে পারেন।
জেরেমিয়া তুরিয়া ওয়াঞ্জিরু (ফেস্টার দলের সদস্য)
জেরেমিয়া একজন তরুণ কৃষক এবং ‘স্মার্ট বিদি’ উদ্যোগের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা। ‘স্মার্ট বিদি’ কৃষকদের প্রশিক্ষণ দেয়, তাদের সাথে চুক্তি করে এবং তাদের কাছ থেকে পণ্য কেনে। আর্থিক অসচ্ছলতার দরুন জেরেমিয়া কলেজে লেখাপড়া করতে পারেননি। তা সত্ত্বেও তিনি এফএও থেকে প্রশিক্ষণ নিয়েছেন এবং গ্রামভিত্তিক সহকারী বা ভিলেজ বেইজড অ্যাসিটেন্ট (ভিবিএ) হিসেবে কাজ করছেন ; সেখানে তিনি কৃষকদের প্রাক-চাষের দক্ষতা, রোপণের দক্ষতা ও ফসল কাটার দক্ষতা বাড়তে সহায়তা করেন। ফলে কৃষকেরা তাদের খামার থেকে উচ্চফলন পান। তিনি তাত্ত্বিক ধারণা থেকে বেরে হয়ে এসে অ্যাকসেস এগ্রিকালচার কৃষক থেকে কৃষক প্রশিক্ষণ ভিডিওগুলো সরাসরি কৃষকদের দেখানোর একটি সহজ উপায় হিসেবে স্মার্ট প্রজেক্টর ব্যবহার করতে চান।
ভিক্টর মুসিতিয়া মুসি
ভিক্টর বুগোমা কাউন্টির অধিবাসী। তিনি এলডোরেট বিশ^বিদ্যালয় থেকে খাদ্য বিজ্ঞান ও পুষ্টি বিষয়ে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন। ভিক্টর বর্তমানে কমিউনিটি পুষ্টি বিষয়ে স্নাতকোত্তর শ্রেণিতে ভর্তি হয়েছেন। খাদ্য ও পুষ্টি বিজ্ঞান বিষয়ে চিকিৎসা ও প্রশিক্ষণ সংস্থায় হাতে-কলমে ব্যবহারিক কাজ করার তাঁর অভিজ্ঞতা ছিল এবং আছে। যা হোক, মুসি জৈবকৃষি অন্তঃপ্রাণ একজন মানুষ এবং তার পরিবারে জৈবকৃষি অনুশীলনের ঐতিহ্য রয়েছে। তিনি হাঁস-মুরগির ব্যবসা করছেন এবং সেখানে তিনি আশেপাশের কৃষকদের ভালো ও টেকসই কৃষিকাজের পরামর্শ দিচ্ছেন। টেকসই উৎপাদনের ইতিবাচক প্রভাবগুলোর কথা জানানোর জন্য ভিক্টর নানারকম ভিডিও প্রদর্শন এবং হাতে-কলমে অনুশীলন দেখানোর জন্য স্মার্ট প্রজেক্টর ব্যবহার করার পরিকল্পনা করছেন। তিনি আশা করেন যে, পরিবেশ ও খাদ্য সুরক্ষা সম্পর্কিত চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবিলায় তিনি এই প্লাটফর্মটি ব্যবহার করবেন যা বর্তমানে তার জনগোষ্ঠী ও বৃহত্তর অর্থে কেনিয়ার বেশিরভাগ কৃষককে প্রভাবিত করছে।
মাউরিন নেজেরি মেইনা
মাউরিন কেনিয়ার কিটালের ম্যানোর হাউজ এগ্রিকালচার সেন্টার (এমএইচএসি) থেকে বায়ো-ইনসেন্টিভ কৃষিতে ডিপ্লোমা অর্জন করেন। বর্তমানে তিনি কেনিয়ায় স্কুল ও কলেজগুলোতে পারমাকালচার (এসসিওপিই) মাঠ-প্রশিক্ষক হিসেবে কাজ করছেন, যা তরুণদের এগ্রোইকোলজি ও পারমাকালচার চর্চার মাধ্যমে স্কুলের পতিত জমিগুলো খাদ্য বাগানে রূপান্তর করতে সক্ষম করে তুলছে। তিনি শিশুদের বিশেষত যাদের বিশেষ প্রয়োজন তাদের জীবন-যাপনে দক্ষ করে তোলেন। মাউরিন জৈবকৃষি অন্তঃপ্রাণ এবং সবসময় তাঁর জনগোষ্ঠীর পরিবর্তনের অ্যাজেন্ট হওয়ার লক্ষ্যে অবিচল। তিনি কেনিয়ায় বায়ো-ইনসেন্টিভ এগ্রিকালচার সেন্টারে মাঠকর্মী ও বীজ ব্যাঙ্ক ব্যবস্থাপক হিসেবেও কাজ করছেন। মাউরিন মনে করেন, আগে তিনি শুধু কাগজ ব্যবহার করে শিশুদের যা শিখিয়েছেন তা তাদের দৃশ্যচিত্রে দেখানোর জন্য স্মার্ট প্রজেক্টর উত্তম উপায় হতে পারে। তিনি তাঁর আশেপাশের জনগোষ্ঠীর তরুণ কৃষক ও নারীদের স্মার্ট প্রজেক্টরে থাকা কৃষক থেকে কৃষক ভিডিওগুলো দেখার জন্য আমন্ত্রণ জানাবেন বলেও ঠিক করেছেন।

ভারত

কুমার নীরজ
‘রিভোল্যুয়েশন উইল বি প্লান্টেড’ ‘ক্ষেতি’ নামক সংস্থাটির সহ-প্রতিষ্ঠাতা কুমার নীরজ। তাঁর নিজের গ্রাম দুরদিহ অঞ্চলে অলাভজনক কৃষি-পদ্ধতিকে এক-ফসলী চাষ থেকে ইকোলজিক্যাল এগ্রোফরেস্ট্রি-তে রূপান্তরিত করার ধারণা নিয়ে ২০১৭ সালে তিনি এটি প্রতিষ্ঠা করেন, সংস্থাটি বৈচিত্র্যময় ফসলের চাষাবাদ-কে উৎসাহিত করে। শৈশবকাল থেকেই তিনি গ্রামীণ জীবনের প্রতি অনুরাগী ছিলেন, যা তাকে প্রাকৃতিক পরিবেশের কাছাকাছি নিয়ে গেছে এবং এর মধ্যদিয়ে তাঁর মনে হয়েছে যে, এটি অনেক বেশি টেকসই ও অন্তর্ভুক্তিমূলক হতে পারে। তিনি বুঝতে পেরেছিলেন যে, তার গ্রামটি এখন আর কোনোভাবেই স্বাবলম্বী নয়। লোকেরা শহরে পাড়ি জমাচ্ছে এবং সকল ধরনের মৌলিক সম্পদ থাকার পরও নতুন প্রজন্ম আর কৃষিতে আগ্রহী হচ্ছে না। তাই তাঁর লেখাপড়া শেষ হওয়ার পর, তিনি তাঁর নিজের গ্রামে ‘ক্ষেতি’ প্রতিষ্ঠা করেছিলেন যা প্রধানত কৃষিক্ষেত্রকে গুরুত্ব দিয়ে কমিউনিটি উন্নয়নমূলক প্রকল্পগুলো পরিচালনা করে থকে।

তাঞ্জানিয়া

আশেরি স্টিফেন লেমেলো
কৃষি বিষয়ে বিভিন্ন ছোট ছোট কোর্স এবং সেমিনারে অংশ নিয়েছিলেন। গ্রামে উন্নয়নের বিভিন্ন সম্প্রদায়ের কার্যক্রমে তার বিভিন্ন ধরনের অভিজ্ঞতা রয়েছে । তিনি বিভিন্ন ক্ষেত্রে এবং গ্রামে পক্ষে ছিলেন। ২০১২ সাল থেকে তিনি ইনুয়া জামি গ্রুপ (লিফটিং-আপ দ্য কমিউনিটি গ্রুপ) এর এক্সিকিউটিভ সেক্রেটারি পদে রয়েছেন, যা গ্রেটার মহলে ইকোসিস্টেম (জিএমই) এর জন্য কাজ করে- এটি একটি প্রত্যন্ত অঞ্চল যেখানে খুব সামান্য বিদ্যুত ব্যবস্থা এবং ইন্টারনেট রয়েছে। যার ফলে এইসব অঞ্চলে ভিডিও বিতরন অনেক কষ্টসাধ্য, এবং একারনেই স্মার্ট প্রজেক্টরের ব্যবহার ভাল ফলাফল আনতে পারে। বৃহত্তর মহলে ইকোসিস্টেমের বর্তমান অস্থিতিশীল কৃষিকাজের জন্য মাটির ক্ষয়জনিত সমস্যা সৃষ্টি করছে, মাটির উর্বরতা হ্রাস এবং ফসলের ফলন হ্রাস পাচ্ছে, যে কারনে আশেরি স্থায়িত্বশীল কৃষিকাজের ব্যবহার প্রচার করতে ভিডিওগুলি ব্যবহার করছেন।

মালাউই

ইমানুয়েল নাপোলো
মালাউই’র দক্ষিণাঞ্চলের জেলা মাচিঙ্গার তিওয়ালে ইয়ুথ ক্লাবের চেয়ারম্যান। মেরেনিয়া পলের চিন্তারই বাস্তবরূপ তিওয়ালে ক্লাব। তবে দুর্ভাগ্য, তিওয়ালে ক্লাব সাফল্যের মুখ দেখার আগেই ২০১৭ সালে মেরেনিয়া মারা যান। ২০১৯ সালে ক্লাবটি আবারো সচল করা হয়। বর্তমানে শিশু-সুরক্ষা, কৃষি, এইচআইভি/এইডস, তরুণ ও নারীর ক্ষমতায়ন নিয়ে কাজ করছে তিওয়ালে ক্লাব। আঙ্গিনা ও উদ্যান কৃষির ওপর কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তাদের নিয়েও কাজ করছে ক্লাবটি। স্মার্ট প্রজেক্টরের মাধ্যমে এই উদ্যোগকে আরো ছড়িয়ে দেওয়ার স্বপ্ন দেখছেন তিওয়ালের সদস্যরা। তাদের লক্ষ্য, নিজেদের স্বাবলম্বী করার পাশাপাশি আরো অনেক তরুণকে প্রশিক্ষণ দেওয়া। এখন ক্লাবের সদস্য ২৫ জন। তাদের ১৬ জনই মেয়ে আর নয় জন ছেলে।
ওসমান মজিদ (ডিজে ওসমান)
লিলংওয়ের উপকণ্ঠে অনেক বছর ধরে একটি ভিডিও বার্নিং সেন্টার পরিচালনা করছেন। তিনি এমন প্রত্যন্ত গ্রামগুলোতে পৌঁছাতে পেরেছেন, যেখানে বিদ্যুৎ এবং স্মার্ট প্রজেক্টরের মাধ্যমে স্থানীয় চিচেওয়া ভাষায় ‘কৃষক থেকে কৃষক’ প্রশিক্ষণ ভিডিওগুলো দেখানো একটি বড়ো চ্যালেঞ্জ। তিনি বলেন, এখনো লোকেরা তাঁর ভিডিও বার্নিং সেন্টারে অ্যাকসেস এগ্রিকালচারের ভিডিওগুলোর জন্য অনুরোধ জানাতে আসেন। তবে, তিনি তাঁর ভিডিও শোয়ের মাধ্যমে তার চেয়ে অনেক বেশি লোকের কাছে পৌঁছাতে পারেন।
ক্রিসি আওয়ালি
ক্রিসি আওয়ালি ম্যানগোচিভিত্তিক ‘ইউবুন্থু গো গ্রিন’ যুব সঙ্ঘের সদস্য। এই ক্লাবে তাঁর সহকর্মীরা হলেন ম্যাকডোনাল্ড ম্যাথাফাওই, ফ্রানচিনা হানটে, অস্টিন ফিরি এবং লুকা বুলা। ‘ইউবুন্থু গো গ্রিন’ ক্ষুদ্র কৃষক সঙ্ঘগুলোতে পরামর্শমূলক সেবা দিয়ে থাকে। এছাড়াও এটি যুবকদের কৃষির মতো উপার্জনের কাজে নিয়োজিত করে অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করার জন্য ‘আটর্স অ্যান্ড ডেকুমেন্টারি মালাউই’-এর মতো প্রতিষ্ঠানগুলোর সাথে কাজ করে। ‘ইউবুনথু গো গ্রিন’-এর লক্ষ্য হলো টেকসই কৃষির প্রচার করা। কারণ, এটি গ্রামীণ মানুষের জীবনমান উন্নত করতে পারে এবং কৃষকদের এই সংক্রান্ত তথ্য পাওয়ার ক্ষেত্রে স্মার্ট প্রজেক্টর বড়ো উৎস হতে পারে।
গ্রেস হ্যারিসন
লিলংওয়ে জেলার এম'বাং’মো স্থানের। গ্রেসের বাবা-মা কৃষক এবং তিনি অল্প বয়স থেকেই কৃষিতে আগ্রহ দেখাতে শুরু করেছিলেন। বর্তমানে, মাধ্যমিক শিক্ষার শেষ বর্ষের ছাত্রী তিনি। ১৭ বছর বয়সে তিনি তার গ্রামের ‘টোটাল ল্যান্ড কেয়ার’ দ্বারা নির্মিত একটি ক্লাবে যোগ দিয়েছিলেন, যা কৃষকদের আরও স্থায়িত্বশীল কৃষিকাজের অনুশীলন শেখায় । ক্লাবটিতে স্থানীয় লোকেরা মুলিমি মুলি ফিন্ডু (যার অর্থ "কৃষিকাজ করা লাভজনক") নামে নাটক পরিবেশন করে। সেক্রেটারি হিসাবে তার অন্যান্য দায়িত্বের পাশাপাশি যুবকদের ক্লাবে যোগদান করানোর দায়িত্বও তিনি পালন করেন । গ্রেস তিন সহকর্মীর একটি দলের সাথে কাজ করছেন - বিনফ্রেড মাথামবালা, কম্বেনি চিমতোলো এবং প্রিশিয়ার চিমাঙ্গিরো । তাদের লক্ষ্য হলো কৃষকরা যেন বিশ্বের বিভিন্ন ভিডিও তাদের নিজের ভাষায় দেখার মাধ্যমে স্বল্প সময়ের মধ্যে কৃষিকাজার আরও ভাল উপায় শিখতে পারেন।
প্যাট্রিক কাওয়ায়ে চিমসেও
‘লিলংওয়ে ইউনিভার্সিটি অব এগ্রিকালচার অ্যান্ড ন্যাচারাল রিসোর্সেস’ (লুনার), মালাউই থেকে কৃষিবাণিজ্য ব্যবস্থাপনায় স্নাতক। তিনি কৃষিবাণিজ্য ব্যবস্থাপনায় স্নাতকোত্তর করছেন একই প্রতিষ্ঠান থেকে। ২০১৯ সালে তিনি জিএপি (গ্যাপ) কমার্শিয়ালস নামে একটি কোম্পানি চালু করেন। বাজার উন্নয়ন-বিষয়ক সংস্থাটির লক্ষ্য, কৃষি বহুমুখীকরণ, কৃষিবাণিজ্যে বিনিয়োগ, ফসলের মান ও উদ্যোগের উন্নয়ন এবং কৃষি বাজারের তথ্য কৃষকের কাছে সহজলভ্য করতে প্রয়োজনীয় উপকরণ সরবরাহ করা। শুরুটা জোরালোভাবে করতে তিন সহকর্মীকে সাথে নিয়েছেন তিনি। তাঁরা হলেন, কোন্দওয়ানি মাইকো, র‌্যাচেল এমপামবিরা ও লরিন নামান্দে। ক্ষুদ্র বাণিজ্য নিয়ে পরামর্শ এবং সয়া, মিষ্টি আলু, সসেজ তৈরি ও আইরিশ আলুর পুষ্টিমান বাড়ানোসহ লেবুজাতীয় ফলের কলম পদ্ধতি নিয়ে এরই মধ্যে অনেক কাজ করেছেন তাঁরা। কৃষকের কাছে বিস্তৃত বার্তা ছড়িয়ে দিতে অত্যাধুনিক স্মার্ট প্রজেক্টরে ভিডিও প্রদর্শনেরও পরিকল্পনা করছেন তাঁরা। প্রদর্শনীতে থাকবে, নিত্য নতুন কৃষিপ্রযুক্তি, কৃষির বহুমুখীকরণ, মানোন্নয়নে প্রশিক্ষণ ও বাণিজ্যিক খামার গড়ে তোলার ওপর বিভিন্ন ভিডিও। কৃষিবাণিজ্য উন্নয়নের নানা কৌশলের সাথেও কৃষকদের পরিচয় করিয়ে দেওয়া হবে। পাশাপাশি কৃষি-উদ্যোগের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে কৃষকদের সহায়তা করা হবে।
ফিনিয়াসি লেম্বানি গাম্বা
পূর্ব আফ্রিকার দেশ মালাউই’র দক্ষিণাঞ্চলের জেলা এনসানজেতে জন্মগ্রহণ করেন। ব্যবসায় হাতেখড়ি ২০১১ সালে। এনসানজের আশপাশের বাজার ও প্রত্যন্ত এলাকায় সিনেমার ডিভিডি ও গানের সিডি বিক্রি দিয়ে তাঁর যাত্রা শুরু। ২০১৩ সালে ফিনিয়াসি বুঝতে পারেন, তার ধ্যান-জ্ঞান সিডি ও ডিভিডিতে গান আর ভিডিও কপি করা। ২০১৫-তে এই গ-িটা বাড়িয়ে কৃষির প্রতি আগ্রহী হন। সিনেমার ডিভিডি বিক্রির পাশাপাশি কৃষকদের হাতে কৃষি-বিষয়ক ভিডিও পৌঁছে দিতে শুরু করেন। কৃষক তাঁর দোকানে মোবাইল ফোন ও মেমোরি কার্ড কিনতে আসলে ফিনিয়াসি তাতে কৃষি বিষয়ের ভিডিও কপি করে দিতেন। তিনি দেখতে পান, কৃষকদের মধ্যেও এসব ভিডিও জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। স্মার্ট প্রজেক্টরের মাধ্যমে ফিনিয়াসি এনসানজে’র কৃষকদের মধ্যে কৃষিকাজের ভালো চর্চাগুলো ছড়িয়ে দিতে চান। এভাবে হাজারো কৃষকের কাছে পৌঁছানোর আশা তার। ফিনিয়াসি মনে করেন, স্মার্ট প্রজেক্টরের মাধ্যমে কৃষক উৎপাদন বাড়ানোর নতুন কৌশল, ফলনে লোকসান কমানো ও কৃষিকাজে সব ঋতুর যথাযথ ব্যবহার শিখতে পারবেন। তাঁর আশা, এই স্মার্ট প্রজেক্টর কৃষিবার্তা ছড়িয়ে দেওয়ার পাশাপাশি স্বাস্থ্য, জেন্ডার ও মানবাধিকার বিষয়ে সচেতনতা তৈরিতেও বড়ো ভূমিকা রাখবে।
ফ্রান্সিস স্টোরি
একজন সমাজকর্মী এবং তাঁর কমিউনিটি ডেভেলেপমেন্ট বিষয়ে ডিপ্লোমা রয়েছে। তিনি ‘আফ্রিকান ইয়াং লিডারশিপ ইনেশিয়িটিভ’ (ওয়াইএএলআই)-এর অ্যালামনাই বা প্রাক্তন ছাত্র এবং ‘অ্যারাইজ ইয়ুথ’ অরাগানাইজেশনের প্রতিষ্ঠাতা। ফ্রান্সিস মালাউয়ের গ্রামাঞ্চলে বড়ো হয়েছেন, সেটা এমন এক জায়গা যেখানে তরুণ বেকারের সংখ্যা ক্রমাগত বেড়েই চলে। ফ্রান্সিস বিশ্বাস করেন, কৃষিবাণিজ্য এমন একটি শক্তিশালী সরঞ্জাম বা টুল যা গ্রামীণ অর্থনীতি সমৃদ্ধ কওে তরুণদের জীবন বদলে দিতে পারে। ‘অ্যারাইজ ইয়ুথ’-এর মাধ্যমে ফ্রান্সিস মৌমাছি পালনের একটি প্রকল্প শুরু করেন, যা তরুণদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করে তুলেছিল। তরুণেরা মৌমাছি পালনের প্রারম্ভিক মূলধন, জ্ঞান ও দক্ষতা পেয়েছিল। ওই প্রকল্প থেকে পঞ্চাশেরও বেশি তরুণ উপকৃত হয়েছিল। ফ্রান্সিস এখন চিকওয়া জেলায় ‘গ্রো ডিজিটাল ইউথ’ নামে একটি উদ্যোগের সাথে কাজ করছেন। ‘গ্রো ডিজিটাল ইয়ুথ’ অনুপ্রেরণা ও পরামর্শ দেওয়ার প্রক্রিয়াগুলোর মাধ্যমে প্রতিশ্রুতিশীল তরুণদের দ্বারা পরিচালিত একটি কৃষি ও খাদ্য ব্যবস্থাপনার ‘এঞ্জিন’ তৈরির লক্ষ্যে কাজ করছে। ফ্রান্সিস তার স্মার্ট প্রজেক্টরে দেখানো ভিডিওগুলো চিকওয়ার তরুণদের সাথে শেয়ার করে নেওয়ার মাধ্যমে ডিজিটাল প্রচেষ্টা বাড়ানোর ব্যাপারে আশাবাদী।
ব্রায়ান থাফালে আনাফি
২০১৫ সালে কৃষিতে ডিপ্লোমা ডিগ্রি অর্জন করেন। একজন সম্প্রসারণ কর্মকর্তা হিসেবে সরকারের কৃষি মন্ত্রণালয়ে যোগ দেওয়ার আগে তিনি নিবিড়ভাবে শস্য ব্যবসায়ে নিয়োজিত ছিলেন। এটি স্থানীয় কৃষকদের একত্রে টেকসই বাজার খুঁজে পেতে এবং তাদের উৎপাদিত প্রচুর পরিমাণের পণ্য বিক্রি করতে একটি সুযোগ তৈরি করেছিল। ২০১৭ সালে শস্যের বাণিজ্যে মন্দা দেখা দেওয়ার পর থেকে তিনি মূল্য সংযোজন করতে শুরু করেন। তিনি তাঁর সহকর্মী আলেকজান্ডার ক্যাডিমপাকিন এবং এরিক আনাফির সাথে ‘জাফার্ম গ্রুপ’ প্রতিষ্ঠা করেন। আলেকজান্ডার অর্থ ও মানবসম্পদ ব্যবস্থাপক এবং এরিক অপারেশন ব্যবস্থাপক। ‘জাফার্ম গ্রুপ’ কৃষকদের সাথে চিনাবাদামের মাখন উৎপাদন এবং সসেজ তৈরির কাজ করে। তাদের উদ্দেশ্য হলো স্থানীয় কৃষকদের এবং পুরো জনগোষ্ঠীকে উদ্যোক্তা হওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় দক্ষ করে তোলা, যাতে তারা কৃষিকে একটি টেকসই ব্যবসা হিসেবে ভাবতে পারে, যা তাদের জীবন বদলে দিতে পারে এবং এর মাধ্যমে মালাউয়ের অর্থনৈতিক বিকাশে অবদান রাখতে পারে। তাদের স্বপ্নের বাস্তবে রূপ দেওয়ার জন্য স্মার্ট প্রজেক্টর একটি সরঞ্জাম হিসেবে কাজ করবে।
মোডেস্টার পেনডাম
অর্থের অভাবে মাধ্যমিক পর্যায়ের পড়াশোনা শেষ করতে পারেন নি। তবে, তিনি কঠোর পরিশ্রম করে চাষাবাদ করে তাঁর পরিবারের খাবারের জোগান দিয়েছিলেন। কঠোর পরিশ্রম করেছেন বলে এবং কৃষিকাজকে ব্যবসা হিসেবে দেখেছেন বলে এলাকার লোকেরা তাঁকে ‘ভিলেজ এগ্রিকালচার কমিটি’ বা ভ্যাক (ভিএসি)-এর নেতা নিয়োগ করেছেন। ক্ষুদ্র, মাঝারি ও বড়ো সবধরনের কৃষকদের নিয়েই ভ্যাক (ভিএসি) গঠিত এবং এই কমিটিতে তিন হাজারেরও বেশি কৃষক যুক্ত রয়েছেন। কৃষকেরা তাদের খামারের নানারকম চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সহায়তা করতে পারে এমন প্রয়োজনীয় সংস্থাগুলোর সাথে ভ্যাক (ভিএসি)-এর মাধ্যমে মোডেস্টার তাদের যোগাযোগ করিয়ে দেওয়ার জন্য প্রচুর পরিশ্রম করেন। স্মার্ট প্রজেক্টরের মাধ্যমে ভিএসি-এর সকল সদস্য নতুন জ্ঞান পেতে পারেন।
লামেক বান্দা
মালাউই’র এক গ্রামে লামেক বান্দা’র জন্ম। লামেক ও তাঁর দুই ভাইবোন ছেলেবেলায় বাবার কাছে শিল্পোদ্যোগের গুরুত্ব সম্পর্কে জেনেছেন। বাবা ছিলেন কৃষক। কঠোর পরিশ্রম করে পরিবারের সদস্যদের জন্য খাবার জোগাতেন। তাঁর জীবনে বড়ো শিক্ষক তাঁর বাবা। কৃষি প্রশিক্ষণ কোথায় পাওয়া যাবে, কীভাবে ভালো উদ্যোক্তা হওয়া যাবে, কোথা থেকে এসব বিষয়ে জানা ও শেখা যাবে এ নিয়ে সবসময়ই সুযোগ খুঁজতে উৎসাহ দিতেন লামেকের বাবা। সেই উৎসাহেই লামেক ‘স্মল অ্যান্ড মিডিয়াম এন্টারপ্রাইজ ডেভেলপমেন্ট ইন্সটিটিউট’ (স্মেডি) থেকে গবাদিপশুর খামার, মাছচাষ, মৌমাছিচাষ, পরিবেশ সংরক্ষণ, পানি নিষ্কাশন ও সেচ এবং ব্যবসা বিষয়ে প্রশিক্ষণ নিয়েছেন। নিজের কৃষি উদ্যোগকে আরো বড়ো করা এবং অন্য তরুণদেরও কৃষি উদ্যোগে আগ্রহী করা তার স্বপ্ন। সম্প্রতি লামেক সার ও রাসায়নিক ছাড়া আলু ও কাসাভা (আফ্রিকা অঞ্চলের প্রধান খাদ্যশস্য) চাষ শুরু করেছেন। এ নিয়ে বিভিন্ন ভিডিও এবং নিজের অভিজ্ঞতা ও জ্ঞান অন্য তরুণ উদ্যোক্তাদের মাঝে ছড়িয়ে দিতে চান লামেক।
স্যাম বেনেডিক্টো চিগাম্ফু
লিলংওয়ে ইউনিভার্সিটি অব এগ্রিকালচার অ্যান্ড ন্যাচারাল রিসোর্সেস (লুনার), মালাউই থেকে মানববিজ্ঞান ও সামাজিক সেবা (হিউম্যান সায়েন্স অ্যান্ড কমিউনিটি সার্ভিসেস) বিষয়ে স্নাতকডিগ্রি অর্জন করেন। ভিশন কলেজ অব ম্যানেজমেন্টে পুষ্টি ও খাদ্য নিরাপত্তা বিষয়ে সহযোগী প্রভাষক এবং ‘বিয়াজো প্রাইভেট সেকেন্ডারি স্কুলে’ বিজ্ঞানের শিক্ষক ছিলেন তিনি। এছাড়াও তিনি ‘ফুড অ্যান্ড নিউট্রিশন অ্যান্ড এগ্রিকালচার জেন্ডার রোলস এক্সটেনশন সাপোর্ট সার্ভিসেস’ (অ্যাগ্রেসো)-এ তিন বছর শিক্ষানবিশ হিসেবে কাজ করেছেন। কৃষি বিষয়ে বিস্তৃত তথ্য তরুণ ও নারীদের কাছে পৌঁছে দেওয়া এবং খাদ্য নিরাপত্তা ও প্রতিদিনের প্রয়োজন মেটাতে কৃষি উদ্যোক্তা তৈরিতে সহায়তা করা তাঁর লক্ষ্য। স্যাম-এর বিশ্বাস, স্মার্ট প্রজেক্টর তার স্বপ্নের বাস্তব রূপ দিতে সহায়ক হবে।
মন্টফোর্ট কুওয়াতানি
মিজু জৈব-খামার : ২০১৮ সালে এই খামারটি গড়ে তোলেন তিনজন তরুণ। কৃষিকাজে কৃত্রিম রাসায়নিক ইনপুটের ব্যবহার এবং প্রচলিত কৃষি-কৌশল নিয়ে ভাবনা ও উদ্বেগ থেকেই তাদের এ উদ্যোগ। এই তিনজন হলেন মন্টফোর্ট কুওয়াতানি (ছবির ব্যক্তি ; উৎপাদন ও অপারেশন্স ব্যবস্থাপক), মাইক মুওয়াওয়া (বিক্রি ও বিপণন ব্যবস্থাপক) এবং কনশাস জাবেসি (খামার ব্যবস্থাপক)। তারা প্রাণিসম্পদ ও উদ্যান বিষয়ে নানা উদ্যোগে বিনিয়োগ করছেন। জৈব-কৃষির কঠোর নীতি মেনে স্বাস্থ্যসম্মত খাদ্যপণ্য উৎপাদন করা তাদের লক্ষ্য। ভোক্তার জন্য স্বাস্থ্যসম্মত খাদ্য উৎপাদনের বিষয়টি নিশ্চিত করতে চান তারা। মালাউই’র লিলংওয়ে থেকে ৪৯ কিলোমিটার পশ্চিমে নামিতেতে শহরে মিজু জৈব-খামারটি করা হয়েছে। খামারের উদ্যোক্তাদের লক্ষ্য, এর পরিসর বাড়িয়ে দেশি-বিদেশি জৈব খাদ্যপণ্য উৎপাদন ও পরিবেশগত কৃষি পর্যটনের ক্ষেত্রে খামারটিকে প্রথম সারির কৃষিবাণিজ্য বাজারে পরিবেশক (মার্কেট সার্ভার) হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করা। কৃষিবাণিজ্যে কৃষকের দক্ষতা ও সক্ষমতা বাড়াতে কৃষি বাণিজ্য স্কুল প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনাও করছেন তারা। নামিতেতে শহরে টেকসই কৃষি পদ্ধতি ও কৌশলকে আরো উন্নত করতে তারা স্মার্ট প্রোজেক্টর ব্যবহার করবেন। মিজু খামারের উদ্যোক্তারা টেকসইভাবে উৎপাদিত জৈব-পণ্য স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক বাজারে বিক্রি ও প্রচারের ক্ষেত্রে বিপণন সমবায়ের (মার্কেটিং কো-অপারেটিভ) উন্নয়নে অন্য কৃষকদেরও সহযোগিতা করতে আগ্রহী।
সিডনি জাসি
লিলংওয়ে জেলার চম্বুওয়ে গ্রামের ২৩ বছর বয়সী একজন তরুণ। সিডনি তার এলাকার কৃষি কর্মকর্তার মাধ্যমে কৃষি প্রশিক্ষণের ভিডিও’র ব্যাপারে উদ্বুদ্ধ হন। ওই একই অফিস থেকে ‘তরুণ উদ্যোক্তা চ্যালেঞ্জ ফান্ড’-এর নাম শোনেন তিনি। সিডনি দেখেন যে, ভিডিও’র মাধ্যমে স্থানীয় মালাউইয়ান ভাষায় নিরক্ষর কৃষকদের প্রশিক্ষণ সহায়তায় বড়ো একটি সুযোগের সূচনা। তার বিশ^াস, স্মার্ট প্রোজেক্টর যেহেতু বৈদ্যুতিক গ্রিড ছাড়া চলে সেহেতু প্রত্যন্ত এলাকায় এই প্রযুক্তি খুব কার্যকর হবে। সম্প্রসারণ কর্মীদের তুলনায় কৃষকের সংখ্যা বেশি থাকায় ভিডিওগুলো সে-ক্ষেত্রেও ভারসাম্য আনতে সহায়তা করবে। তার ওপর, এলাকার কৃষকেরা টেকসই কৃষিচর্চা বিষয়েও সচেতন হবে। সিডনি মনে করেন, এতে পরিবেশের ক্ষতি কমার পাশাপাশি কৃষক পরিবারের উৎপাদনশীলতা ও লাভের পরিমাণ বাড়বে।
এমবুমবা চালিরা
লিলংওয়ে ইউনিভার্সিটি অব এগ্রিকালচার অ্যান্ড ন্যাচারাল রিসোর্সেস থেকে জলজ প্রাণি ও মৎস্যবিদ্যায় বিএসসি। এমবুমবা একবছরেরও বেশি সময় মাস্টারকার্ড ফাউন্ডেশনে যুব থিংক ট্যাংক গবেষক হিসেবে কাজ করেছেন। কেএডাব্লিউজেও (কাউজো) ফাউন্ডেশনে পেমফেরো কুম্বানির সঙ্গে এমবুমবার পরিচয় হয়। লিলংওয়েতে মাঠ কর্মকর্তা হিসেবে তারা একসঙ্গে কাজ করছেন। পেমফেরোও জলজ ও মৎস্যবিদ্যায় বিএসসি করেছেন। দু’জনে মিলে অ্যাকুয়ালিংক সার্ভিস নামে একটি প্রতিষ্ঠান করেছেন। জলজপ্রাণি বিদ্যা এবং শিল্পোদ্যোগে তরুণ ও নারীর ক্ষমতায়নের লক্ষ্যে কাজ করে অ্যাকুয়ালিংক সার্ভিস। শিল্পোদ্যোগ ও জৈব-কৃষিতে তরুণ ও নারীর ক্ষমতায়নে তারা ভিডিও প্রদর্শন করতে আগ্রহী।

বেনিন

গৌরবেরা মোরি
বেনিনের পরাকৌ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কৃষি-অর্থনীতিতে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেছেন। তিনি বেনিনে সম্প্রসারণ ও কৃষি-পরামর্শ ক্ষেত্রে দুটি বেসরকারি সংস্থায় (DEDRAS-ONG and CANAL DEVELOPPEMENT) পাঁচ বছর কাজ করেছেন। বর্তমানে তিনি আফ্রিকার আইএসএডিএ-কন্সাল্টিং-এর (স্থায়ীত্বশীল কৃষি উন্নয়নের জন্য তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি) একজন সদস্য। এই সংস্থাটির লক্ষ্য হলো কৃষি-প্রশিক্ষণ ভিডিও-র মতো নতুন তথ্য ও যোগাযোগ পদ্ধতি ব্যবহার করে আফ্রিকার কৃষিক্ষেত্রে বিপ্লব ঘটানো।
ফ্রেইজাস এম. বোরিস গ্লোনি
২৮ বছর বয়সী একজন তরুণ। তিনি সমাজবিদ্যায় স্নাতকোত্তর। ফ্রেইজাস কৃষি ভ্যালু চেইন বিশ্লেষক এবং গ্রামীণ জমি ব্যবহারের জন্য জিআইজেড থেকে সনদপ্রাপ্ত একজন বিশেষজ্ঞ। তিনি আলিমেন টেরি বেনিন নেটওয়ার্কের একজন আঞ্চলিক প্রতিনিধি। ফ্রেইজাসের গ্রামীণ উন্নয়নে ছয় বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে এবং তিনি টেকসই কৃষি ও পরিবেশের ব্যাপারে প্রাণান্ত। ফ্রেইজাস ‘হোম ডেভেলপমেন্ট’ নামের এনজিও-র নির্বাহী পরিচালক। তিনি তাঁর প্রিয় বেনিনে খাদ্যের নিরাপত্তা এবং কৃষি-বিপ্লবে কার্যকর অবদান রাখতে চান।
আবদুল ওয়াহাব আজিবি ফাতাও
ফ্রেইজাস-এর দলের দ্বিতীয় সদস্য হলেন আবদুল ওয়াহাব আজিবি ফাতাও। ৩২ বছর বয়সী এই যুবক প্রকল্প পরিচালনা ও পর্যবেক্ষণ বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেছেন। আবদুল ওহাব একজন জিআইজেড প্রোসিআইভিএ বাণিজ্য প্রশিক্ষক এবং তিনি কয়েক বছর ধরে তরুণ উদ্যোক্তাদের সাথে কাজ করছেন।
রিচিদাতৌ ওরৌ তৌরা
দলের তৃতীয় সদস্য হলেন রিচিদাতৌ ওরৌ তৌরা। ২৬ বছরের এই তরুণী ভূগোল বিষয়ে স্নাতক। রিচিদাতৌ ‘হোম ডেভেলপমেন্ট’ নামের এনজিও-র কমিউনিটি অ্যানিমেটর। তিনি জৈবসার উৎপাদন ও এর ব্যবহারের গুরুত্ব সম্পর্কে কৃষকদের সচেতন করার প্রশিক্ষণে কর্মসূচির সাথে জড়িত ছিলেন।
নাবাহানি আয়ওয়া-সান্নি তাসফাও
দলের চতুর্থ সদস্য হলেন নাবাহানি আয়ওয়া-সান্নি তাসফাও। ২৫ বছরের টহবগে এই তরুণ গ্রীষ্মমণ্ডলীয় কৃষি বিষয়ে বিশেষত বাগান-পণ্য উৎপাদনে ডিগ্রি অর্জন করেছেন। গত একবছর ধরে তিনি ‘হোম ডেভেলপমেন্ট’ এনজিও-তে উদ্যান-কৃষক সমিতির সাথে কাজ করছেন। নাবাহানির নিজস্ব একটি খামার আছে যাতে তিনি চাষাবাদের বিষয়ে অন্যকে যা করতে বলেন তা নিজে চর্চা করতে পারেন।
মাহতোনডিজি সেইড্রিক আগবেজি
বেনিন প্রজাতন্ত্রের একজন কৃষিবিদ। তাঁর বয়স ২৫ বছর। তিনি কৃষি-খাদ্য প্রক্রিয়া বায়ো-এঞ্জিনিয়ারিংয়ে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেছেন। কৃষি সম্প্রসারণ এজেন্ট হিসেবে তাঁর তিন বছরের কাজের অভিজ্ঞতা রয়েছে। তিনি ‘এগ্রো ফিনিক্স এন্টারপ্রাইজ’র স্বত্ব¡াধিকারী এবং তাঁর জেলার (কোভ) কৃষক সমবায়ের সাধারণ সম্পাদক। মাহতোনডিজি ‘পুুমে ভারটে ডি লুনা’ নামের একটি সাময়িকীর অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা। তিনি এমন একজন কৃষি-উদ্যোক্তা হতে চান, যিনি প্রযুক্তিগত সহায়তার মাধ্যমে তাঁর কমিউনিটির উন্নয়নে অবদান রেখে অন্যদের কাছে অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকতে পারেন।
অ্যাঞ্জেলিক জিননলনসা
এই দলের অন্য সদস্য হলেন আইয়াবো অ্যাঞ্জেলিক জিননলনসা। তিনি কৃষি-খাদ্য প্রক্রিয়া বায়ো-এঞ্জিনিয়ারিংয়ে স্নাতক। পিপিএএও এবং পিএডিএ প্রকল্পগুলোর কৃষি সম্প্রসারণে তাঁর একবছরের কাজের অভিজ্ঞতা রয়েছে। তিনি তাঁর জেলার (কোভ) একটি উদ্যান সমবায়ের সহ-সভাপতি এবং এগ্রো ফিনিক্স এন্টারপ্রাইজের ব্যবস্থাপক। এগ্রো ফিনিক্স বাগান-পণ্য উৎপাদন ও প্রক্রিয়াজাত করে থাকে। জৌ-অঞ্চলে জৈবসার ব্যবহার করে উদ্যান-পণ্য উৎপাদনে বাগান-কৃষকদের প্রযুক্তিগত জ্ঞান প্রদানে একজন পাইওনিয়ার হতে চান আইয়াবো অ্যাঞ্জেলিক ।
কওবালো উলরিচ অ্যাকাটে
দলের তৃতীয় সদস্য হলেন কওবালো উলরিচ অ্যাকাটে। তাঁর বয়স ২২ বছর, এবং তাঁর বাড়ি হলো টাগো-তে। তাঁর দলের অন্যান্য সদস্যের মতো তিনিও কৃষি-খাদ্য প্রক্রিয়া বায়ো-এঞ্জিনিয়ারিংয়ে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন। বিবি টোগো এসএ ব্রিওয়েরি এবং আইএমডিআইডি-টোগো এনজিও-তে মান নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থাপনায় তাঁর দুই বছরের কাজের অভিজ্ঞতা রয়েছে।
গ্লোরিয়া স্যান্ড্রিন দা মাথা সান্ত’আনা
২৩ বছর বয়সী একজন তরুণী এবং তিনি কৃষি-খাদ্য প্রক্রিয়া বায়ো-এঞ্জিনিয়ারিংয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। তিনি অশোক সাহেল চেঞ্জমেকার নেটওয়ার্কের অন্যতম সদস্য এবং একজন কৃষিবিদ। তিনি নারীর জীবনমান উন্নয়নে কাজ করতে চান। তিনি এমন একটি পৃথিবীর স্বপ্ন দেখেন যেখানে কৃষিখাত খাদ্য ও আয়ের একটি নির্ভরযোগ্য ও বাস্তবপোযোগী উৎস হবে। গ্লোরিয়া, এগ্রিপ্রিসিজ নামের একটি দলের সহ-নেতা হিসেবে কাজ শুরু করেন। তাদের লক্ষ্য হলো দায়িত্বশীল ও টেকসই কৃষিকাজের মাধ্যমে আফ্রিকা, বিশেষত বেনিন ক্ষুধা ও দারিদ্র্য মুক্ত করার জন্য পরিবর্তনের অ্যাজেন্ট হতে কৃষকদের জ্ঞান ও উপায় বাতলে দেওয়া।
জনাথন বেলি
এগ্রিপ্রিসিজ দলের দ্বিতীয় সদস্য হলেন জনাথন বেলি। তাঁর বয়স ২৯ বছর। তিনি প্রকল্প পরিচালনা বিষয়ে স্নাতক। জনাথন কমিউনিটি উন্নয়নে প্রাণান্ত। তিনি আফ্রিকান ফরেস্ট ফোরামের সদস্য এবং গ্লোরিয়ার সাথে এগ্রিপ্রিসিজ-এর সহ-নেতা। তাঁর লক্ষ্য হলো আফ্রিকায় বিশেষত বেনিনের খাদ্য নিরাপত্তায় অবদান রাখা।
টিনোস নোই আনাগো
এই দলের তৃতীয় সদস্য হলেন টিনোস নোই আনাগো। তাঁর বয়স ২২ বছর। তিনি সফটওয়্যার এঞ্জিনিয়ারিংয়ে বিএসসি। তিনি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বিষয়ে প্রাণান্ত। বেনিনের জাতীয় কৃষি গবেষণা ইন্সটিটিউটে কম্পিউটার এঞ্জিনিয়ার হিসেবে নিবিষ্ট অভিজ্ঞতা অর্জনের পর তিনি প্রযুক্তিগত উদ্ভাবনীর ওপর জোর দিয়ে কৃষি প্রকল্পগুলোতে সহায়তা দেওয়ার জন্য এগ্রিপ্রিসিজ দলে যোগ দেন। তাঁর লক্ষ্য হলো, খাদ্য-নিরাপত্তার চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় কম্পিউটার প্রযুক্তির ওপর ভিত্তি করে কৃষিখাতসহ আফ্রিকার বিভিন্ন ক্ষেত্রে প্রযুক্তিগত উন্নয়নে অবদান রাখা।
ক্লেমেন্স অ্যাসোংবা
বেনিন প্রজাতন্ত্রের নাগরিক। তাঁর বয়স ২৯ বছর। তিনি কৃষি বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। বিশ^বিদ্যালয়ে তাঁর প্রধান বিষয় ছিল প্রাকিৃতিক সম্পদ ব্যবস্থাপনা। বেনিনের গ্রামাঞ্চলে রাসায়নিক সার ব্যবহারকারী উদ্যান-কৃষকদের সাথে কাজ করার তাঁর সাত বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে। সেখানে কৃষকদের রাসায়নিক সার ব্যবহার করা একটি নিয়মিত ও গুরুত্বপূর্ণ অনুশীলন ছিল। তিনি বেশ কয়েকটি প্রকল্পের অধীনে জৈবসার এবং পুষ্টির নানারকম ধারণা সম্পর্কে কৃষকদের প্রশিক্ষণ দিয়েছিলেন। ক্লেমেন্স কৃষি বিষয়ে বিশেষত প্রাকৃতিক সম্পদ ব্যবস্থাপনা ও সংরক্ষণে প্রাণান্ত। স্মার্ট প্রজেক্টর ব্যবহার করে কৃষকদের সক্ষমতা বাড়ানো যায় এবং একটি ব্যবসায়ের বিকাশ ঘটানো যায়Ñ এই বিষয়টি জানার পর তিনি ইআরএ হওয়ার জন্য আবেদন করতে আগ্রহী হন।
হিলায়ার কোডজো
হিলায়ার কোডজো, ক্লেমেন্স অ্যাসোংবার দলে কাজ করছেন। ৩০ বছর বয়সী এই তরুণও বেনিন রিপাবলিকের নাগরিক। তিনি অ্যাকুয়াকালচার বিষয়ে বিএসসি ডিগ্রি অর্জন করেছেন এবং সিইবিইডিইএস জুডডু নামের স্থানীয় এসজিও-তে তিন বছর কাজ করেছেন। এই তিন বছরে তিনি উদ্যান-কৃষকদের সাথে জৈবসার ব্যবহার করে উৎপাদন বাড়ানোর কৌশল নিয়ে কাজ করেছেন। হিলায়ার কৃষি কাজের বিষয়ে প্রাণান্ত এবং তিনি একজন বড়োমাপের কৃষি উদ্যোক্তা হওয়ার স্বপ্ন দেখেন।

মালি

আবুবকর সিদ্দিকি ডিইএমবিইএলই
আবুবকর সিদ্দিকি ডিইএমবিইএলই ২৫ বছর বয়সী একজন তরুণ। তিনি এমবিএ (বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশন) ডিগ্রি ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে (ইন্টারন্যাশনাল ট্রেড) স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন। বর্তমানে তিনি জেএসএম অ্যাসোসিয়েশন (জেইউয়েন্স স্টার্টআপস মালিয়ানস)-এ আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিষয়ে ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। প্রতিষ্ঠানটি মালি-তে তরুণ উদ্যোক্তা বিষয়ে প্রচারণা কর্মসূচি পরিচালনা করে। এই অ্যাসোসিয়েশনের সহ-প্রতিষ্ঠাতা হওয়ার আগে আবুবকর আলজেরিয়ার ওরনে কারিতাসের সাথে মানবিক অ্যাজেন্ট হিসেবে কাজ করতেন। সেই অভিজ্ঞতা তাঁকে জেএসএম অ্যাসোসিয়েশন প্রতিষ্ঠায় উদ্বুদ্ধ করে। তাঁর স্বপ্ন হলো এই অ্যাসোসিয়েশনকে মালির সেরা প্রতিষ্ঠানে উন্নীত করা যা কৃষক ও তরুণ উদ্যোক্তাদের সক্ষমতা তৈরি করবে।
আলিউ আবুব্যাক্রাইন মাগা
কৃষি অন্তঃপ্রাণ একজন তরুণ মালিয়ান। তিনি ভূগোল বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেছেন। তবে, নানাবিধ প্রশিক্ষণের মাধ্যমে তিনি কৃষি-বিষয়ে জ্ঞান লাভ করেন। এই জ্ঞানের ওপর ভিত্তি করে তিনি বুর্কিনা-ফাসো এবং ক্যাসামেন্সে (সেনেগাল) চলে যান। তিনি ‘মতি’ অঞ্চলে একটি খামার প্রতিষ্ঠা করতে চান এবং ভিডিও প্রদর্শনের মাধ্যমে কৃষকদের জৈবকৃষি কাজের প্রশিক্ষণ দিয়ে তাদের সংগঠনগুলোর সাথে একটি ব্যবসায় স্থাপন করতে চান। আলিউ স্বপ্ন দেখেন, ‘মতি’ অঞ্চলে একটি জৈবকৃষি কেন্দ্র থাকবে এবং কৃষকেরা সেখানে প্রশিক্ষণ নেবেন।
আলফা মাহমুদ ট্রাউরে
একজন ২৬ বছরের তরুণ। তাঁর বাড়ি মালি-তে। তিনি কৃষি-বিষয়ে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন। নানাধরনের ইন্টার্নশিপ করার পর মাহমুদ সিদ্ধান্ত নেন যে, মালিয়ান কৃষকদের পরিসেবা দেওয়ার জন্য তিনি নিজস্ব একটি প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলবেন। কৃষি অন্তঃপ্রাণ মাহমুদের স্বপ্ন হলো কৃষকদের সক্ষমতা বাড়িয়ে মালির খাদ্য সুরক্ষায় অবদান রাখা। তাঁর এই স্বপ্ন বাস্তবায়নের জন্য ভিডিও প্রদর্শন দারুণ একটি উপায় বলে তিনি মনে করেন।
আলফামোয়ে এএসকেওএফএআরই
আলফামোয়ে ২৯ বছর বয়সী একজন তরুণ উদ্যোক্তা। তিনি ম্যানেজমেন্ট কন্ট্রোল অডিট বিষয়ে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন। তিনি এআই টাটা ফার্ম সারলু এন্টারপ্রাইজের প্রতিষ্ঠাতা ও পরিচালক। প্রচণ্ডভাবে কৃষিকাজের দিকে ঝুঁকে পড়ার আগে আলফামোয়ে একবছর ব্যাংকে কাজ করেন। আলফামোয়ে খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ বিষয়ে চিনে একটি প্রশিক্ষণ নেন। এরপর তিনি তাঁর নিজস্ব উদ্যোগ স্থাপন করেন, যার লক্ষ্য ছিল কৃষিপণ্য (হাঁস-মুরগি, বাগান ও দুগ্ধপণ্য) উৎপাদন ও বিক্রি করা। আলফামোয়ের স্বপ্ন হলো মালির অন্যতম বৃহৎ কৃষি-উদ্যোগ প্রতিষ্ঠা করা এবং দেশের খাদ্য সুরক্ষায় কার্যকর অবদান রাখা।
ফেইনকি লাজি
একজন তরুণ কৃষিপ্রকৌশলী। স্নাতক ডিগ্রি অর্জনের পর তিনি কৃষি প্রতিষ্ঠান ট্যাম্বারোয়া ফার্মিং এনটারপ্রাইজে কাজ করছেন। সেখানে তিনি সাকোলার সেন্টারে প্রশিক্ষণার্থীদের প্রশিক্ষণ দিতেন এবং প্রতিষ্ঠানের কৃষি কার্যক্রম তদারকি করতেন। বর্তমানে ফেইনকি কুলফারমার-এর প্রতিষ্ঠাতা এবং ব্যবস্থাপক। কুলফারমার হলো একটি উদ্যোগের সূচনা যা শাকসবজি এবং ফল বিক্রির জন্য উদ্ভাবনী ওয়েব প্ল্যাটফর্ম তৈরি করেছে। প্রতিষ্ঠানটি প্রশিক্ষণের মাধ্যমে কৃষকদের ক্ষমতা বৃদ্ধি এবং তাদের জন্য বীজ ও জৈবসারের পরিসেবা প্রদান করে। ফেইনকি কৃষকদের জীবনমান উন্নত করার এবং তা স্থিতিশীল রাখার স্বপ্ন দেখেন।
মামাদৌ সেলা
মালির একজন তরুণ। তিনি বিজ্ঞান বিভাগে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেছেন। মামাদৌ কৃষকদের সেবা প্রদান করেন। তিনি কৃষকদের সক্ষমতা তৈরির জন্য কাজ করেন। তিনি কৃষকদের ট্রাক্টর সরবরাহের পরিসেবা প্রদান করেন এবং তারা যেন সহজে বাজারগুলোতে ঢুকতে পারে সেই সুযোগ করে দেন। গ্রাম অন্তঃপ্রাণ মামাদৌ পুরো মালিজুড়ে জৈবকৃষির প্রচার করতে আগ্রহী।
ম্যাথিয়াস কেইআইটিএ
ম্যাথিয়াস কেইআইটিএ মালির একজন তরুণ কৃষি-উদ্যোক্তা। পূর্বে কৃষির সাথে তাঁর কোনো সম্পর্ক না থাকলেও এর প্রতি তিনি দারুণ আগ্রহী। মালির পশ্চিমে কায়েস নামক স্থানে কৃষি-প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে যোগ দিয়ে তিনি কৃষি-বিষয়ে তাঁর জ্ঞান বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেন। তিনি সিএফএপিকে (সেন্টার ডি ফরমেশন এগ্রো-প্যাস্টোরাল ডি কায়েস)-এ এবং সংহাই সেন্টারে কৃষি-উদ্যোগ বিষয়ে প্রশিক্ষণ নেন। তিনি এলোহিম এগ্রোবিজনেস এন্টারপ্রইজের প্রতিষ্ঠাতা, যা প্রধানত উদ্যান-জাত পণ্যের কারবারি এবং তাঁর স্বপ্ন হলো কায়েসে এই পণ্যগুলোর চাহিদা মিটিয়ে অন্য অঞ্চলে রপ্তানি করা।
রোকিয়াটু ট্রাউরে
২৯ বছর বয়সী একজন মালিয়ান উদ্যোক্তা। তিনি সংস্থা ব্যবস্থাপনায় এমবিএ করেন। তিনি হিরৌ অ্যালায়েন্স সারল নামে একটি উদ্যোগের সহ-প্রতিষ্ঠাতা ও সিইও। এই কোম্পানিটিতে পাঁচজন বেতনভুক্ত কর্মী রয়েছে। কোম্পানিটির লক্ষ্য হলো প্রধানত মালির নারী ও তরুণদের একীভূত করে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক ভ্যালু চেইনের মাধ্যমে জৈব-পদ্ধতিতে উৎপাদিত শজিনার পণ্যগুলোর প্রচার করা ও বেচাকেনা করা। প্রতিষ্ঠানটি এমন একটি ব্যবসায়িক মডেল তৈরি করেছে যার মাধ্যমে তাদের উদ্দিষ্ট জনগোষ্ঠীর জন্য প্রযুক্তিগত সহায়তা সরবরাহ করছে এবং ওই উদ্দিষ্ট জনগোষ্ঠীকে জৈব-পদ্ধতিতে উৎপাদিত শজিনা সরবরাহকারীতে রূপান্তর করছে। তারা শজিনার জন্য যেমন প্রযুক্তিগত সহায়তা প্রদান করে একই ধরনের সহায়তা অন্যান্য দানাদার শস্য বা সিরিয়াল ফসলের জন্যও করে থাকে। এই উদ্যোগটি বাগুনেদা জোনে ৮০জন নারী ও তরুণ কৃষকের সাথে কাজ করছে, যেখানে পাঁচ হাজার ১০০ শজিনা গাছের একটি নার্সরি স্থাপন করা হয়েছে। রোকিয়াটুর আকাক্সক্ষা হলো ২০২৫ সালের মধ্যে দশ লাখ শজিনা গাছের অধিকারী হওয়া এবং ভিডিও প্রশিক্ষণের মাধ্যমে অন্যান্য কার্যক্রমের বিকাশ ঘটানো। তাঁর উদ্যোগের জন্য তাঁকে ধন্যবাদ জানাই। রোকিয়াটুর উদ্যোগটি বেশ কিছু প্রোগ্রাম বিজয়ী হয়েছে। যার মধ্যে ‘ওয়েস্টার্ন আফ্রিকান প্রোগ্রাম অব ক্লাইমেট লিডারশিপ ফর উইমেন, ওয়ান প্লানেট ফেলোশিপ, ইয়াং আফ্রিকান লিডারশিপ ইনিশিয়েটিভ, ইয়াং ইনোভ্যাশান ল্যাব এবং উইমেন অ্যাক্ট ওয়েস্ট আফ্রিকা অন্যতম। রোকিয়াটুর নেতৃত্বের দরুন তাঁকে আফ্রিকার জলবায়ু সম্পর্কিত গ্রিন অ্যাম্বাসেডর বা সবুজ রাষ্ট্রদূত মনোনীত করা হয়েছে।

সেনেগাল

অ্যালিওউ সউ
একজন তরুণ উদ্যোক্তা। তিনি সাহিত্যে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। তবে, তিনি কৃষি উদ্যোক্তা প্রশিক্ষণের জন্য এমআইজেএআই/এফএও এবং আফ্রিকা নেটওয়ার্ক ফর এগ্রিকালচার এন্টারপ্রেনরশিপ প্রোমোশন (আরএপিইএ)-কে ধন্যবাদ জানান। অ্যালিওউ রায়েটএগ্রি নামের একটি প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতা। প্রতিষ্ঠানটির লক্ষ্য হলো উদ্যানচর্চার (হার্টিকালচার) পণ্য উৎপাদন এবং সেনেগালের বিশেষত, লুগা অঞ্চলের কৃষকদের সক্ষমতা বাড়ানো, এটি এখন স্মার্ট প্রজেক্টর ব্যবহার করে করা যায়। অ্যালিওউয়ের স্বপ্ন হলো তাঁর প্রতিষ্ঠান রায়েটএগ্রি’র উন্নয়ন এবং এটিকে সাফল্যের মডেল হিসেবে সেনেগালজুড়ে পরিচিত করে তোলা।
মামাদউ সউ
২৮ বছর বয়সী মামাদউ সউ এগ্রোফরেস্ট্রি-তে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। বর্তমানে তিনি স্নাতকোত্তর গবেষণায় নিয়োজিত ; এর পাশাপাশি তিনি অর-ডিউরেবল নামে একটি সংস্থা প্রতিষ্ঠা করেন। এই সংস্থার সাত জনের একটি দল রয়েছে, যাদের লক্ষ্য কেবল কম্পোস্ট উৎপাদন করে তা কৃষকদের কাছে বিক্রি করাই নয়, বরং কৃষকদের সক্ষমতাও বাড়ানো। মামাদউ-এর সংস্থা জৈবসার ব্যবহার করে জৈবকৃষির প্রচারণা পরিচালনা করে থাকে। তাঁর স্বপ্ন হলো তাঁর সংস্থাকে সেনেগালের কম্পোস্ট উৎপাদনে অন্যতম সেরা প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তোলা।
ম্যারি অ্যাঞ্জেলিক ফেই
২২ বছর বয়সী ম্যারি অ্যাঞ্জেলিক ফেই কৃষক পরিবারের সন্তান। ছেলেবেলায় তিনি তাঁর দাদির সাথে খামারে কাজ করতেন। মাত্র ১৩ বছর বয়সে তিনি নিজের পোল্ট্রি খামার শুরু করেন। পারিবারিক এমন পরিবেশ তাঁকে কৃষিকাজের প্রতি আরও আগ্রহী করে তোলো। বিজ্ঞান বিষয়ে স্নাতক ডিগ্রি অর্জনের পর তিনি কৃষি নিয়ে পড়াশোনা করার জন্য ফ্রান্সের অ্যাক্স মারসেইল ইউনিভর্সিটি ইন্সটিটিউট অব টেকনোলজি-তে ভর্তি হন। ২০১৯ সালে তিনি মন্টপিলিয়ার সাপএগ্রো-তে কৃষি প্রকৌশল ডিগ্রি অর্জনের জন্য পড়াশোনা শুরু করেন যা ২০২২ সালে শেষ হবে এবং এখানে তাঁর অধ্যয়নের প্রধান বিষয় হলো ‘এগ্রিফুড’। ছেলেবেলা থেকেই উদ্যোক্তা হওয়ার কারণে ইন্সটিটিউট অব টেকনোলজি-তে পড়াকালীনই অ্যাঞ্জেলিক ‘আফ্রিকাগ্রিকালচার’ নামে একটি উদ্যোগ শুরু করেন। সেনেগালভিত্তিক এই সংস্থাটির লক্ষ্য হলো কৃষক ও এগ্রিফুড বিষয়ে কৃষিউদ্যোক্তাদের সক্ষমতা বাড়ানো। তিনি সেনেগালে তাঁর সহকর্মী অক্টেভ ইমানুয়্যাল ফেই-এর সাথে সহ-পরিচালক হিসেবে প্রতিষ্ঠানটি পরিচালনা করছেন এবং তাঁরা দু’জনে একত্রে প্রশিক্ষণের কাজে স্মার্ট প্রজেক্টরের উত্তম ব্যবহার করবেন। তাঁর স্বপ্ন হলো সেনেগালে এমন একটি নামিদামি প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা যে প্রতিষ্ঠানটি প্রযুক্তিগতভাবে (সক্ষমতা বৃদ্ধি) ও আর্থিকভাবে সহায়তা প্রদান করে লাখ লাখ মানুষকে (প্রধানত নারী ও তরুণদের) দারিদ্র্য থেকে মুক্তি দিতে পারবে।
পেপ টলিবউয়া ফল
২৯ বছর বয়সী একজন তরুণ উদ্যোক্তা। তাঁর উদ্যানতত্ত্বে পেশাদারি মনোভাবের সনদ (সার্টিফিকেট ডি’অ্যাটিচ্যুড প্রফেশনেল) রয়েছে এবং বর্তমানে তিনি ‘ওয়াইডেমহা কোম্পানি ডি লোগা’য় প্রশিক্ষণের দায়িত্বে নিয়োজিত। সংস্থাটি অনেক ধরনের কাজ করে থাকে। তবে, তার মধ্যে উদ্যান ও পরিবেশ সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। তিনি যে প্রশিক্ষণ কর্মসূচিগুলো অফার করে থাকেন, সেই প্রশিক্ষণ কর্মসূচিগুলো উন্নত করতে স্মার্ট প্রজেক্টর সহায়তা করতে পারে। ‘ওয়াইডেমহা’ কোম্পানিতে যোগ দেওয়ার আগে পেপ টলিবউয় ফল এসসিএল (সোসাইটি ডি কালচার লেগিউমের), সিন ফ্রেইজ এন্টারপ্রাইজ এবং তারু আসকানসহ বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠানে কাজ করেন। তাঁর স্বপ্ন হলো সেনেগালে উদ্যানতত্ত্বের সবচেয়ে বড়ো প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা।
এন্টারপ্রেনরস ফর রুরাল এ্যাকসেস সম্পর্কে আরও পড়তে, দয়া করে এখানে ক্লিক করুন

পরিবর্তন-সৃষ্টিকারী

নীরাজ কুমার, ভারত

নীরাজ কুমারের প্রতিষ্ঠানের নাম ‘ক্ষেতি’- হিন্দিতে এই শব্দটির অর্থ ‘চাষাবাদ’। গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর উন্নয়ন এবং কৃষক ও গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর জন্য প্রশিক্ষণ কর্মসূচি পরিচালনা করাই সংস্থাটির মূল কাজ। সংস্থাটি ভারতের বিহার রাজ্যের গ্রামীণ এলাকায় ইকোলজিক্যাল এগ্রোফরেস্ট্রির মাধ্যমে টেকসই এবং লাভজনক কৃষিকাজ উদ্বুদ্ধ করতে কৃষক-কেন্দ্রিক একটি মডেল প্রবর্তন করেছে।   

আরও পড়তে এখানে ক্লিক করুন

নিরাজের কার্যক্রমের ভিডিও দেখতে এখানে ক্লিক করুন

 

ডিজাইনার এবং নির্মাতা Adaptive - The Drupal Specialists