আমাদের যুব উদ্যোক্তারা

গ্রামীণ জনগোষ্ঠীতে তরুণসমাজের কাছে কৃষিকে আরো আকর্ষণীয় করে তুলতে এবং আরো বেশিসংখ্যক নারীর কাছে পৌঁছে দিতে যারা কৃষি-ভিডিওসমূহ প্রচারের সাথে যুক্ত একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠা করতে চায়, যা কৃষক ও গ্রামীণ ব্যবসাকে সাহায্য করবে, এমন তরুণ গতিশীল লোকেদের সহায়তা করার জন্য ‘তরুণ উদ্যেক্তা চ্যালেঞ্জ ফান্ড’ গঠিত হয়েছে। চ্যালেঞ্জ ফান্ড বিজয়ীরা যে সৌর-চালিত স্মার্ট প্রজেক্টর পেয়েছে তার ভেতরে স্থানীয় ভাষায় অ্যাকসেস এগ্রিকালচার ভিডিওসমূহ রয়েছে, তারা যে গ্রামীণ এলাকায় সেবা প্রদান করে এর সাহায্যে তারা সেখানে প্রভাব ফেলতে পারে। এখানে, আমাদের চ্যালেঞ্জ ফান্ড বিজয়ীদের সাথে সাক্ষাৎ করুন- রুরাল অ্যাকসেস-এর জন্য তারা সত্যিকারের উদ্যোক্তা...

বেনিন
ভারত
আইভরি কোস্ট
মালাউই
উগান্ডা

আইভরি কোস্ট

কোনান এন’গুয়েসান রিচমন্ড
২০১৭ সালে যখন তিনি একটি সভায় অংশগ্রহণ করেছিলেন তখন থেকেই তাঁর উদ্যোক্তা বিষয়ে আগ্রহ জাগে, যদিও তখন তিনি শিক্ষার্থী ছিলেন। তাঁর সহযোগীদের সাথে কাজ করার সময় তিনি সহ-প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে ‘ফ্যাং দল’ শুরু করেন, যেটি কৃষি প্রকল্পগুলোর নকশা তৈরি এবং বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে একটি বিশেষজ্ঞ সংস্থা বা দল। তিনি একজন শিক্ষার্থী উদ্যোক্তা হয়ে ওঠেন এবং আইএনপি-এইচবি (ইন্সটিটিউট ন্যাশনাল পলিটেকনিক ফেলিক্স হাউফুয়েট বোইনি ডি ইয়ামোসৌক্রো) নামক উদ্যোক্তা ক্লাবে যোগদান করেন এবং ২০১৮ সাল থেকে তিনি সেখানে কমিউনিটি ব্যবস্থাপক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। কৃষি এঞ্জিনিয়ারিংয়ে ডিপ্লোমা অর্জনের পর তিনি সোসাইটি আফ্রিকান ডি প্লানটেশন ডি’হ্যাভস (এসএপিএইচ) সংস্থায় যোগদান করেন। বর্তমানে তিনি সেখানে পাইথোপ্যাথোলজিস্ট হিসেবে কাজ করছেন। এর পাশপাশি নিজ কমিউনিটিকে সহযোগিতা করার জন্য উদ্যোক্তা প্রকল্পগুলোও চালিয়ে যাচ্ছেন।

উগান্ডা

অ্যাড্রিকো নেগ্রো সাইমন
নিজেদের কৃষি খামার থাকায় সাইমন পরিবারের কাছ থেকেই কৃষিকাজে এবং কৃষি-প্রশিক্ষণে দক্ষ হয়ে বেড়ে ওঠার সুযোগ পেয়েছেন। পরিবার থেকেই তাঁর কৃষির প্রতি ভালোবাসা জন্মে ও বিকাশ লাভ করে। পরে তিনি উগান্ডার র্মাটিয়ার বিশ^বিদ্যালয় থেকে কৃষি-বিষয়ে ¯œাতক ডিগ্রি লাভ করেন। কৃষি এবং জীবিকার ক্ষেত্রে তাঁর অনেক বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে। ওয়ার্ল্ড ভিশন উগান্ডার সাথে পরিবেশ নিয়ে কাজ করার তাঁর রয়েছে দারুণ অভিজ্ঞতা। তিনি এখন উগান্ডার ‘ওয়েস্ট নীল’ অঞ্চলে শরণার্থী-বস্তিতে ও গ্রামীণ কৃষক এবং দক্ষিণ সুদান ও কঙ্গো থেকে আসা শরণার্থীদের জন্য কৃষি-প্রশিক্ষণ ভিডিও প্রদর্শনীর সাথে সক্রিয়ভাবে যুক্ত। প্রশিক্ষণটি বেশিরভাগ শাকসবজি, ক্ষেতের ফসল এবং পরিবেশ সুরক্ষার জন্য পরিচালিত। অংশগ্রহণকারীরা সত্যি সত্যিই নতুন প্রযুক্তি গ্রহণ করছে এবং তাদের বাড়ির বাগানে এবং ফসলের ক্ষেতে প্রয়োগ করছে।

বেনিন

গৌরবেরা মোরি
বেনিনের পরাকৌ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কৃষি-অর্থনীতিতে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেছেন। তিনি বেনিনে সম্প্রসারণ ও কৃষি-পরামর্শ ক্ষেত্রে দুটি বেসরকারি সংস্থায় (DEDRAS-ONG and CANAL DEVELOPPEMENT) পাঁচ বছর কাজ করেছেন। বর্তমানে তিনি আফ্রিকার আইএসএডিএ-কন্সাল্টিং-এর (স্থায়ীত্বশীল কৃষি উন্নয়নের জন্য তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি) একজন সদস্য। এই সংস্থাটির লক্ষ্য হলো কৃষি-প্রশিক্ষণ ভিডিও-র মতো নতুন তথ্য ও যোগাযোগ পদ্ধতি ব্যবহার করে আফ্রিকার কৃষিক্ষেত্রে বিপ্লব ঘটানো।

ভারত

কুমার নীরজ
‘রিভোল্যুয়েশন উইল বি প্লান্টেড’ ‘ক্ষেতি’ নামক সংস্থাটির সহ-প্রতিষ্ঠাতা কুমার নীরজ। তাঁর নিজের গ্রাম দুরদিহ অঞ্চলে অলাভজনক কৃষি-পদ্ধতিকে এক-ফসলী চাষ থেকে ইকোলজিক্যাল এগ্রোফরেস্ট্রি-তে রূপান্তরিত করার ধারণা নিয়ে ২০১৭ সালে তিনি এটি প্রতিষ্ঠা করেন, সংস্থাটি বৈচিত্র্যময় ফসলের চাষাবাদ-কে উৎসাহিত করে। শৈশবকাল থেকেই তিনি গ্রামীণ জীবনের প্রতি অনুরাগী ছিলেন, যা তাকে প্রাকৃতিক পরিবেশের কাছাকাছি নিয়ে গেছে এবং এর মধ্যদিয়ে তাঁর মনে হয়েছে যে, এটি অনেক বেশি টেকসই ও অন্তর্ভুক্তিমূলক হতে পারে। তিনি বুঝতে পেরেছিলেন যে, তার গ্রামটি এখন আর কোনোভাবেই স্বাবলম্বী নয়। লোকেরা শহরে পাড়ি জমাচ্ছে এবং সকল ধরনের মৌলিক সম্পদ থাকার পরও নতুন প্রজন্ম আর কৃষিতে আগ্রহী হচ্ছে না। তাই তাঁর লেখাপড়া শেষ হওয়ার পর, তিনি তাঁর নিজের গ্রামে ‘ক্ষেতি’ প্রতিষ্ঠা করেছিলেন যা প্রধানত কৃষিক্ষেত্রকে গুরুত্ব দিয়ে কমিউনিটি উন্নয়নমূলক প্রকল্পগুলো পরিচালনা করে থকে।

মালাউই

ইমানুয়েল নাপোলো
মালাউই’র দক্ষিণাঞ্চলের জেলা মাচিঙ্গার তিওয়ালে ইয়ুথ ক্লাবের চেয়ারম্যান। মেরেনিয়া পলের চিন্তারই বাস্তবরূপ তিওয়ালে ক্লাব। তবে দুর্ভাগ্য, তিওয়ালে ক্লাব সাফল্যের মুখ দেখার আগেই ২০১৭ সালে মেরেনিয়া মারা যান। ২০১৯ সালে ক্লাবটি আবারো সচল করা হয়। বর্তমানে শিশু-সুরক্ষা, কৃষি, এইচআইভি/এইডস, তরুণ ও নারীর ক্ষমতায়ন নিয়ে কাজ করছে তিওয়ালে ক্লাব। আঙ্গিনা ও উদ্যান কৃষির ওপর কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তাদের নিয়েও কাজ করছে ক্লাবটি। স্মার্ট প্রজেক্টরের মাধ্যমে এই উদ্যোগকে আরো ছড়িয়ে দেওয়ার স্বপ্ন দেখছেন তিওয়ালের সদস্যরা। তাদের লক্ষ্য, নিজেদের স্বাবলম্বী করার পাশাপাশি আরো অনেক তরুণকে প্রশিক্ষণ দেওয়া। এখন ক্লাবের সদস্য ২৫ জন। তাদের ১৬ জনই মেয়ে আর নয় জন ছেলে।
ওসমান মজিদ (ডিজে ওসমান)
লিলংওয়ের উপকণ্ঠে অনেক বছর ধরে একটি ভিডিও বার্নিং সেন্টার পরিচালনা করছেন। তিনি এমন প্রত্যন্ত গ্রামগুলোতে পৌঁছাতে পেরেছেন, যেখানে বিদ্যুৎ এবং স্মার্ট প্রজেক্টরের মাধ্যমে স্থানীয় চিচেওয়া ভাষায় ‘কৃষক থেকে কৃষক’ প্রশিক্ষণ ভিডিওগুলো দেখানো একটি বড়ো চ্যালেঞ্জ। তিনি বলেন, এখনো লোকেরা তাঁর ভিডিও বার্নিং সেন্টারে অ্যাকসেস এগ্রিকালচারের ভিডিওগুলোর জন্য অনুরোধ জানাতে আসেন। তবে, তিনি তাঁর ভিডিও শোয়ের মাধ্যমে তার চেয়ে অনেক বেশি লোকের কাছে পৌঁছাতে পারেন।
ক্রিসি আওয়ালি
ক্রিসি আওয়ালি ম্যানগোচিভিত্তিক ‘ইউবুন্থু গো গ্রিন’ যুব সঙ্ঘের সদস্য। এই ক্লাবে তাঁর সহকর্মীরা হলেন ম্যাকডোনাল্ড ম্যাথাফাওই, ফ্রানচিনা হানটে, অস্টিন ফিরি এবং লুকা বুলা। ‘ইউবুন্থু গো গ্রিন’ ক্ষুদ্র কৃষক সঙ্ঘগুলোতে পরামর্শমূলক সেবা দিয়ে থাকে। এছাড়াও এটি যুবকদের কৃষির মতো উপার্জনের কাজে নিয়োজিত করে অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করার জন্য ‘আটর্স অ্যান্ড ডেকুমেন্টারি মালাউই’-এর মতো প্রতিষ্ঠানগুলোর সাথে কাজ করে। ‘ইউবুনথু গো গ্রিন’-এর লক্ষ্য হলো টেকসই কৃষির প্রচার করা। কারণ, এটি গ্রামীণ মানুষের জীবনমান উন্নত করতে পারে এবং কৃষকদের এই সংক্রান্ত তথ্য পাওয়ার ক্ষেত্রে স্মার্ট প্রজেক্টর বড়ো উৎস হতে পারে।
গ্রেস হ্যারিসন
লিলংওয়ে জেলার এম'বাং’মো স্থানের। গ্রেসের বাবা-মা কৃষক এবং তিনি অল্প বয়স থেকেই কৃষিতে আগ্রহ দেখাতে শুরু করেছিলেন। বর্তমানে, মাধ্যমিক শিক্ষার শেষ বর্ষের ছাত্রী তিনি। ১৭ বছর বয়সে তিনি তার গ্রামের ‘টোটাল ল্যান্ড কেয়ার’ দ্বারা নির্মিত একটি ক্লাবে যোগ দিয়েছিলেন, যা কৃষকদের আরও স্থায়িত্বশীল কৃষিকাজের অনুশীলন শেখায় । ক্লাবটিতে স্থানীয় লোকেরা মুলিমি মুলি ফিন্ডু (যার অর্থ "কৃষিকাজ করা লাভজনক") নামে নাটক পরিবেশন করে। সেক্রেটারি হিসাবে তার অন্যান্য দায়িত্বের পাশাপাশি যুবকদের ক্লাবে যোগদান করানোর দায়িত্বও তিনি পালন করেন । গ্রেস তিন সহকর্মীর একটি দলের সাথে কাজ করছেন - বিনফ্রেড মাথামবালা, কম্বেনি চিমতোলো এবং প্রিশিয়ার চিমাঙ্গিরো । তাদের লক্ষ্য হলো কৃষকরা যেন বিশ্বের বিভিন্ন ভিডিও তাদের নিজের ভাষায় দেখার মাধ্যমে স্বল্প সময়ের মধ্যে কৃষিকাজার আরও ভাল উপায় শিখতে পারেন।
প্যাট্রিক কাওয়ায়ে চিমসেও
‘লিলংওয়ে ইউনিভার্সিটি অব এগ্রিকালচার অ্যান্ড ন্যাচারাল রিসোর্সেস’ (লুনার), মালাউই থেকে কৃষিবাণিজ্য ব্যবস্থাপনায় স্নাতক। তিনি কৃষিবাণিজ্য ব্যবস্থাপনায় স্নাতকোত্তর করছেন একই প্রতিষ্ঠান থেকে। ২০১৯ সালে তিনি জিএপি (গ্যাপ) কমার্শিয়ালস নামে একটি কোম্পানি চালু করেন। বাজার উন্নয়ন-বিষয়ক সংস্থাটির লক্ষ্য, কৃষি বহুমুখীকরণ, কৃষিবাণিজ্যে বিনিয়োগ, ফসলের মান ও উদ্যোগের উন্নয়ন এবং কৃষি বাজারের তথ্য কৃষকের কাছে সহজলভ্য করতে প্রয়োজনীয় উপকরণ সরবরাহ করা। শুরুটা জোরালোভাবে করতে তিন সহকর্মীকে সাথে নিয়েছেন তিনি। তাঁরা হলেন, কোন্দওয়ানি মাইকো, র‌্যাচেল এমপামবিরা ও লরিন নামান্দে। ক্ষুদ্র বাণিজ্য নিয়ে পরামর্শ এবং সয়া, মিষ্টি আলু, সসেজ তৈরি ও আইরিশ আলুর পুষ্টিমান বাড়ানোসহ লেবুজাতীয় ফলের কলম পদ্ধতি নিয়ে এরই মধ্যে অনেক কাজ করেছেন তাঁরা। কৃষকের কাছে বিস্তৃত বার্তা ছড়িয়ে দিতে অত্যাধুনিক স্মার্ট প্রজেক্টরে ভিডিও প্রদর্শনেরও পরিকল্পনা করছেন তাঁরা। প্রদর্শনীতে থাকবে, নিত্য নতুন কৃষিপ্রযুক্তি, কৃষির বহুমুখীকরণ, মানোন্নয়নে প্রশিক্ষণ ও বাণিজ্যিক খামার গড়ে তোলার ওপর বিভিন্ন ভিডিও। কৃষিবাণিজ্য উন্নয়নের নানা কৌশলের সাথেও কৃষকদের পরিচয় করিয়ে দেওয়া হবে। পাশাপাশি কৃষি-উদ্যোগের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে কৃষকদের সহায়তা করা হবে।
ফিনিয়াসি লেম্বানি গাম্বা
পূর্ব আফ্রিকার দেশ মালাউই’র দক্ষিণাঞ্চলের জেলা এনসানজেতে জন্মগ্রহণ করেন। ব্যবসায় হাতেখড়ি ২০১১ সালে। এনসানজের আশপাশের বাজার ও প্রত্যন্ত এলাকায় সিনেমার ডিভিডি ও গানের সিডি বিক্রি দিয়ে তাঁর যাত্রা শুরু। ২০১৩ সালে ফিনিয়াসি বুঝতে পারেন, তার ধ্যান-জ্ঞান সিডি ও ডিভিডিতে গান আর ভিডিও কপি করা। ২০১৫-তে এই গ-িটা বাড়িয়ে কৃষির প্রতি আগ্রহী হন। সিনেমার ডিভিডি বিক্রির পাশাপাশি কৃষকদের হাতে কৃষি-বিষয়ক ভিডিও পৌঁছে দিতে শুরু করেন। কৃষক তাঁর দোকানে মোবাইল ফোন ও মেমোরি কার্ড কিনতে আসলে ফিনিয়াসি তাতে কৃষি বিষয়ের ভিডিও কপি করে দিতেন। তিনি দেখতে পান, কৃষকদের মধ্যেও এসব ভিডিও জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। স্মার্ট প্রজেক্টরের মাধ্যমে ফিনিয়াসি এনসানজে’র কৃষকদের মধ্যে কৃষিকাজের ভালো চর্চাগুলো ছড়িয়ে দিতে চান। এভাবে হাজারো কৃষকের কাছে পৌঁছানোর আশা তার। ফিনিয়াসি মনে করেন, স্মার্ট প্রজেক্টরের মাধ্যমে কৃষক উৎপাদন বাড়ানোর নতুন কৌশল, ফলনে লোকসান কমানো ও কৃষিকাজে সব ঋতুর যথাযথ ব্যবহার শিখতে পারবেন। তাঁর আশা, এই স্মার্ট প্রজেক্টর কৃষিবার্তা ছড়িয়ে দেওয়ার পাশাপাশি স্বাস্থ্য, জেন্ডার ও মানবাধিকার বিষয়ে সচেতনতা তৈরিতেও বড়ো ভূমিকা রাখবে।
ফ্রান্সিস স্টোরি
একজন সমাজকর্মী এবং তাঁর কমিউনিটি ডেভেলেপমেন্ট বিষয়ে ডিপ্লোমা রয়েছে। তিনি ‘আফ্রিকান ইয়াং লিডারশিপ ইনেশিয়িটিভ’ (ওয়াইএএলআই)-এর অ্যালামনাই বা প্রাক্তন ছাত্র এবং ‘অ্যারাইজ ইয়ুথ’ অরাগানাইজেশনের প্রতিষ্ঠাতা। ফ্রান্সিস মালাউয়ের গ্রামাঞ্চলে বড়ো হয়েছেন, সেটা এমন এক জায়গা যেখানে তরুণ বেকারের সংখ্যা ক্রমাগত বেড়েই চলে। ফ্রান্সিস বিশ্বাস করেন, কৃষিবাণিজ্য এমন একটি শক্তিশালী সরঞ্জাম বা টুল যা গ্রামীণ অর্থনীতি সমৃদ্ধ কওে তরুণদের জীবন বদলে দিতে পারে। ‘অ্যারাইজ ইয়ুথ’-এর মাধ্যমে ফ্রান্সিস মৌমাছি পালনের একটি প্রকল্প শুরু করেন, যা তরুণদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করে তুলেছিল। তরুণেরা মৌমাছি পালনের প্রারম্ভিক মূলধন, জ্ঞান ও দক্ষতা পেয়েছিল। ওই প্রকল্প থেকে পঞ্চাশেরও বেশি তরুণ উপকৃত হয়েছিল। ফ্রান্সিস এখন চিকওয়া জেলায় ‘গ্রো ডিজিটাল ইউথ’ নামে একটি উদ্যোগের সাথে কাজ করছেন। ‘গ্রো ডিজিটাল ইয়ুথ’ অনুপ্রেরণা ও পরামর্শ দেওয়ার প্রক্রিয়াগুলোর মাধ্যমে প্রতিশ্রুতিশীল তরুণদের দ্বারা পরিচালিত একটি কৃষি ও খাদ্য ব্যবস্থাপনার ‘এঞ্জিন’ তৈরির লক্ষ্যে কাজ করছে। ফ্রান্সিস তার স্মার্ট প্রজেক্টরে দেখানো ভিডিওগুলো চিকওয়ার তরুণদের সাথে শেয়ার করে নেওয়ার মাধ্যমে ডিজিটাল প্রচেষ্টা বাড়ানোর ব্যাপারে আশাবাদী।
ব্রায়ান থাফালে আনাফি
২০১৫ সালে কৃষিতে ডিপ্লোমা ডিগ্রি অর্জন করেন। একজন সম্প্রসারণ কর্মকর্তা হিসেবে সরকারের কৃষি মন্ত্রণালয়ে যোগ দেওয়ার আগে তিনি নিবিড়ভাবে শস্য ব্যবসায়ে নিয়োজিত ছিলেন। এটি স্থানীয় কৃষকদের একত্রে টেকসই বাজার খুঁজে পেতে এবং তাদের উৎপাদিত প্রচুর পরিমাণের পণ্য বিক্রি করতে একটি সুযোগ তৈরি করেছিল। ২০১৭ সালে শস্যের বাণিজ্যে মন্দা দেখা দেওয়ার পর থেকে তিনি মূল্য সংযোজন করতে শুরু করেন। তিনি তাঁর সহকর্মী আলেকজান্ডার ক্যাডিমপাকিন এবং এরিক আনাফির সাথে ‘জাফার্ম গ্রুপ’ প্রতিষ্ঠা করেন। আলেকজান্ডার অর্থ ও মানবসম্পদ ব্যবস্থাপক এবং এরিক অপারেশন ব্যবস্থাপক। ‘জাফার্ম গ্রুপ’ কৃষকদের সাথে চিনাবাদামের মাখন উৎপাদন এবং সসেজ তৈরির কাজ করে। তাদের উদ্দেশ্য হলো স্থানীয় কৃষকদের এবং পুরো জনগোষ্ঠীকে উদ্যোক্তা হওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় দক্ষ করে তোলা, যাতে তারা কৃষিকে একটি টেকসই ব্যবসা হিসেবে ভাবতে পারে, যা তাদের জীবন বদলে দিতে পারে এবং এর মাধ্যমে মালাউয়ের অর্থনৈতিক বিকাশে অবদান রাখতে পারে। তাদের স্বপ্নের বাস্তবে রূপ দেওয়ার জন্য স্মার্ট প্রজেক্টর একটি সরঞ্জাম হিসেবে কাজ করবে।
মোডেস্টার পেনডাম
অর্থের অভাবে মাধ্যমিক পর্যায়ের পড়াশোনা শেষ করতে পারেন নি। তবে, তিনি কঠোর পরিশ্রম করে চাষাবাদ করে তাঁর পরিবারের খাবারের জোগান দিয়েছিলেন। কঠোর পরিশ্রম করেছেন বলে এবং কৃষিকাজকে ব্যবসা হিসেবে দেখেছেন বলে এলাকার লোকেরা তাঁকে ‘ভিলেজ এগ্রিকালচার কমিটি’ বা ভ্যাক (ভিএসি)-এর নেতা নিয়োগ করেছেন। ক্ষুদ্র, মাঝারি ও বড়ো সবধরনের কৃষকদের নিয়েই ভ্যাক (ভিএসি) গঠিত এবং এই কমিটিতে তিন হাজারেরও বেশি কৃষক যুক্ত রয়েছেন। কৃষকেরা তাদের খামারের নানারকম চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সহায়তা করতে পারে এমন প্রয়োজনীয় সংস্থাগুলোর সাথে ভ্যাক (ভিএসি)-এর মাধ্যমে মোডেস্টার তাদের যোগাযোগ করিয়ে দেওয়ার জন্য প্রচুর পরিশ্রম করেন। স্মার্ট প্রজেক্টরের মাধ্যমে ভিএসি-এর সকল সদস্য নতুন জ্ঞান পেতে পারেন।
লামেক বান্দা
মালাউই’র এক গ্রামে লামেক বান্দা’র জন্ম। লামেক ও তাঁর দুই ভাইবোন ছেলেবেলায় বাবার কাছে শিল্পোদ্যোগের গুরুত্ব সম্পর্কে জেনেছেন। বাবা ছিলেন কৃষক। কঠোর পরিশ্রম করে পরিবারের সদস্যদের জন্য খাবার জোগাতেন। তাঁর জীবনে বড়ো শিক্ষক তাঁর বাবা। কৃষি প্রশিক্ষণ কোথায় পাওয়া যাবে, কীভাবে ভালো উদ্যোক্তা হওয়া যাবে, কোথা থেকে এসব বিষয়ে জানা ও শেখা যাবে এ নিয়ে সবসময়ই সুযোগ খুঁজতে উৎসাহ দিতেন লামেকের বাবা। সেই উৎসাহেই লামেক ‘স্মল অ্যান্ড মিডিয়াম এন্টারপ্রাইজ ডেভেলপমেন্ট ইন্সটিটিউট’ (স্মেডি) থেকে গবাদিপশুর খামার, মাছচাষ, মৌমাছিচাষ, পরিবেশ সংরক্ষণ, পানি নিষ্কাশন ও সেচ এবং ব্যবসা বিষয়ে প্রশিক্ষণ নিয়েছেন। নিজের কৃষি উদ্যোগকে আরো বড়ো করা এবং অন্য তরুণদেরও কৃষি উদ্যোগে আগ্রহী করা তার স্বপ্ন। সম্প্রতি লামেক সার ও রাসায়নিক ছাড়া আলু ও কাসাভা (আফ্রিকা অঞ্চলের প্রধান খাদ্যশস্য) চাষ শুরু করেছেন। এ নিয়ে বিভিন্ন ভিডিও এবং নিজের অভিজ্ঞতা ও জ্ঞান অন্য তরুণ উদ্যোক্তাদের মাঝে ছড়িয়ে দিতে চান লামেক।
স্যাম বেনেডিক্টো চিগাম্ফু
লিলংওয়ে ইউনিভার্সিটি অব এগ্রিকালচার অ্যান্ড ন্যাচারাল রিসোর্সেস (লুনার), মালাউই থেকে মানববিজ্ঞান ও সামাজিক সেবা (হিউম্যান সায়েন্স অ্যান্ড কমিউনিটি সার্ভিসেস) বিষয়ে স্নাতকডিগ্রি অর্জন করেন। ভিশন কলেজ অব ম্যানেজমেন্টে পুষ্টি ও খাদ্য নিরাপত্তা বিষয়ে সহযোগী প্রভাষক এবং ‘বিয়াজো প্রাইভেট সেকেন্ডারি স্কুলে’ বিজ্ঞানের শিক্ষক ছিলেন তিনি। এছাড়াও তিনি ‘ফুড অ্যান্ড নিউট্রিশন অ্যান্ড এগ্রিকালচার জেন্ডার রোলস এক্সটেনশন সাপোর্ট সার্ভিসেস’ (অ্যাগ্রেসো)-এ তিন বছর শিক্ষানবিশ হিসেবে কাজ করেছেন। কৃষি বিষয়ে বিস্তৃত তথ্য তরুণ ও নারীদের কাছে পৌঁছে দেওয়া এবং খাদ্য নিরাপত্তা ও প্রতিদিনের প্রয়োজন মেটাতে কৃষি উদ্যোক্তা তৈরিতে সহায়তা করা তাঁর লক্ষ্য। স্যাম-এর বিশ্বাস, স্মার্ট প্রজেক্টর তার স্বপ্নের বাস্তব রূপ দিতে সহায়ক হবে।

পরিবর্তন-সৃষ্টিকারী

নীরাজ কুমার, ভারত

নীরাজ কুমারের প্রতিষ্ঠানের নাম ‘ক্ষেতি’- হিন্দিতে এই শব্দটির অর্থ ‘চাষাবাদ’। গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর উন্নয়ন এবং কৃষক ও গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর জন্য প্রশিক্ষণ কর্মসূচি পরিচালনা করাই সংস্থাটির মূল কাজ। সংস্থাটি ভারতের বিহার রাজ্যের গ্রামীণ এলাকায় ইকোলজিক্যাল এগ্রোফরেস্ট্রির মাধ্যমে টেকসই এবং লাভজনক কৃষিকাজ উদ্বুদ্ধ করতে কৃষক-কেন্দ্রিক একটি মডেল প্রবর্তন করেছে।   

আরও পড়তে এখানে ক্লিক করুন

নিরাজের কার্যক্রমের ভিডিও দেখতে এখানে ক্লিক করুন